২৩ অক্টোবর ২০২৬

বোয়ালখালীতে ওলকচুর আবাদে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে লাভজনক কন্দজাতীয় সবজি ওলকচুর আবাদ। কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া এ চাষ এখন কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাগানো ওলকচু গাছগুলো সবুজ পাতায় ভরে উঠেছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন জমির পরিচর্যায়।

স্থানীয় কৃষক রূপক দে জানান, চার বছর আগে কৃষি বিভাগের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো তিনি ওলকচুর আবাদ শুরু করেন। লাভজনক হওয়ায় এরপর থেকে প্রতি বছরই এ ফসলের চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ২০ শতক জমিতে ওলকচুর আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, রাঙামাটি থেকে উন্নত জাতের দেশীয় বীজ সংগ্রহ করে এ জমিতে চাষ করতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিটি গাছে ৫ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত ফলন হলে প্রায় ৪ টন ওলকচু উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। এতে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা তার। তবে সরকারি সহায়তা পেলে কৃষকেরা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন বলে জানান তিনি।

রূপক দের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে একই এলাকার কৃষক শঙ্কর দে, বিশ্বজিৎ দে, বিপ্লব দে ও ঝুন্টু দেও নিজ উদ্যোগে প্রায় ৮০ শতক জমিতে ওলকচুর চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো বোয়ালখালীর প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ওলকচুর প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে এ ফসলের আবাদ সম্প্রসারণ করছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র দে বলেন, ওলকচু চাষে সময় কিছুটা বেশি লাগলেও উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। অনাবৃষ্টি বা খরার প্রকোপ না থাকলে সেচের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া ওলকচু মাটির নিচে থাকায় সহজে নষ্ট হয় না এবং বাজারমূল্য কম থাকলেও পরে উত্তোলনের সুযোগ থাকে। ফলে এ চাষে লোকসানের ঝুঁকি খুবই কম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ওলকচু একটি লাভজনক কন্দজাতীয় সবজি। পাহাড়ি ঢাল, নিচু জমি, স্বল্প ছায়াযুক্ত স্থান এবং অনাবাদি জমিতেও এর চাষ সম্ভব। ফলে জমির নিবিড় ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলন পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে। ভবিষ্যতে উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ওলকচুর চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন