চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চার সদস্য। তাঁদের পেশাদারিত্ব, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁদের হাতে সনদপত্র ও আর্থিক প্রণোদনা তুলে দেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চার সদস্য হলেন— তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি), বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিমুল চন্দ্র দাস, এসআই মোহাম্মদ আবু সেলিম রেজা এবং কনস্টেবল মো. রিমন হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি এলাকায় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয় এবং গত ১৫ জুন পটিয়া উপজেলা থেকে মামলার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটির তদন্তে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও চ্যালেঞ্জিং। তবে জেলা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টানা অনুসন্ধানের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাসেল বলেন, ‘এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আনোয়ারা থানা পুলিশের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই পুরস্কার ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জনগণের সেবায় কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
উল্লেখ্য, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা ও জনহিতকর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ১৫ সদস্যকে চারটি বিশেষ ঘটনায় পুরস্কার, সনদপত্র ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সদস্য।














