২২ অক্টোবর ২০২৬

সময়টা এখনো মেসির

আমরা বেঁচে আছি লিওনেল মেসির সময়ে। আমরা হয়তো কেউ কেউ ভেবেছিলাম সেই সময়টা পিছু ফেলে আসছি। কিসের কী! ৩৯ বছর বয়সে মেসি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন। পরের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করতে করতেও করেন না, দুই গোল করেন। মেসির সময়টা এখনো আছে। তাই সময় এখনো মেসির। আর আমরা সেই সময়ের বিশ্বকাপ দেখছি।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে বয়স, চোট আর ফিটনেস নিয়ে যত প্রশ্ন ছিল, গত দুই ম্যাচেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন লিওনেল মেসি। শুধু উত্তরই দেননি, প্রশ্নগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। যেন বলতে চেয়েছেন— মহাতারকাদের সংজ্ঞা বয়স দিয়ে হয় না।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনটি গোলই ছিল তিন রকম সৌন্দর্যের প্রতীক। দূরপাল্লার শট, গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নেওয়া আর ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে নিখুঁত ফিনিশ— সবকিছু মিলিয়ে সেটি ছিল এক পরিপূর্ণ মেসি-শো।

সেই হ্যাটট্রিকের রেশ কাটতে না কাটতেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আবারও জ্বলে ওঠেন তিনি। যদিও শুরুটা ছিল হতাশার। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস। স্টেডিয়ামে নেমে আসে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শের অপেক্ষা যেন আরও দীর্ঘ হলো। কিন্তু মেসির গল্পে হতাশা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

৩৮ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার বুদ্ধিদীপ্ত ডামি থেকে পাওয়া বল প্রথম স্পর্শেই জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন মেসি। মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে নিজের নাম লেখান ইতিহাসের একক শীর্ষে। তবু মেসির জন্য একটি গোল কখনোই যথেষ্ট নয়।

যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে, আর আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করে নকআউট পর্ব। দুই ম্যাচ শেষে দলের পাঁচ গোলই এসেছে মেসির পা থেকে। ৩৯ বছর বয়সে এমন আধিপত্য ফুটবল ইতিহাসে বিরল।

একটা সময় ছিল, আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করত বাঁচার জন্য। এখন দৃশ্যপট বদলেছে। লিওনেল স্কালোনির সুসংগঠিত দল মেসিকে দিয়েছে স্বাধীনতা। মাঝমাঠে ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পলরা ছন্দ তৈরি করছেন, সামনে হুলিয়ান আলভারেজরা জায়গা তৈরি করছেন। ফলে মেসিকে আর একা পৃথিবীর ভার বইতে হয় না। আর যখন মেসি মুক্ত থাকেন, তখন তিনি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল— মাত্র দুই ম্যাচেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, গ্রেটদের কোনো মেয়াদ থাকে না।

ম্যাচ শেষে যখন তিনি দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করছিলেন, তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছিল। সেখানে শুধু আর্জেন্টাইন সমর্থকই ছিলেন না, ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরাও। কারণ মেসি এখন আর কেবল একটি দেশের নন, তিনি একটি সময়ের নাম।

৩৯ বছর বয়সী এই মানুষটি হয়তো জানেন, পৃথিবীটা এখনো তাঁরই। আর তাই, সময়টা এখনো মেসির।

আরও পড়ুন