২৩ অক্টোবর ২০২৬

সড়ক হয়েছে, ড্রেন হয়নি— আনোয়ারায় পানির নিচে উন্নয়ন

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণ করা হয়েছে নতুন সড়ক। কিন্তু সড়ক নির্মাণের আগেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করায় সেই উন্নয়ন এখন নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনবিহীন সড়কের একাংশ সামান্য বৃষ্টিতেই ডোবার মতো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আগেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বন্দর কমিউনিটি সেন্টার থেকে মহালখান বাজার পর্যন্ত ব্যস্ততম শাহ্ মোহছেন আউলিয়া সড়কের এই চিত্র এখন স্থানীয়দের হতাশার কারণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে দুর্ভোগে থাকা এলাকাবাসী নতুন সড়ক নির্মাণে স্বস্তির আশা দেখলেও, বাস্তবে সেই আশায় ভাটা পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো বাজার এলাকা এবং সড়কের দুই পাশে নেই কোনো নালা বা ড্রেন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন নির্মিত আরসিসি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৪০ ফুট অংশ নির্মাণ না করায় সেখানে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর কমিউনিটি সেন্টার থেকে মহালখান বাজার পর্যন্ত প্রায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মোহছেন আউলিয়া সড়কের উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। সম্প্রতি মূল সড়কের কাজ শেষ হলেও এখনো যান চলাচলের জন্য তা খুলে দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকদিন আগে মহালখান বাজার থেকে সেন্টার মেঘনা ব্যাংক পর্যন্ত প্রায় ১৬০ মিটার অংশ দুই ফুট উঁচু করে ঢালাই করা হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের বাকি অংশ উন্নয়ন না করায় সেখানে পানি জমে চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সড়ক নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ড্রেন না থাকায় এখন সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। হাঁটাচলা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।’

পথচারী রোকসানা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য চলাচল খুবই কষ্টকর।’

কেইপিজেড শ্রমিক মো. সোহেল বলেন, ‘কাজে যাওয়ার সময় প্রতিদিন ময়লা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়। রাস্তা হয়েছে, কিন্তু ড্রেন না থাকায় সেই সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।’

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাজারে ক্রেতা আসতে চায় না, কারণ রাস্তার একাংশে সবসময় পানি জমে থাকে। এতে ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণের আগে পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে এ দুর্ভোগ সৃষ্টি হতো না। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা ছিল। তবে স্থানীয়দের বাধার কারণে সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পানি চলাচলের জন্য আনা সামগ্রীও ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।’ তবে সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন