২১ অক্টোবর ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়ি এইচএসসি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, বিপাকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি হাজি এম এ কালাম সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার অভিযোগে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে এমসিকিউ পরীক্ষা দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথম পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত সমাধান এবং শিক্ষা উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ দাবি জানান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, সাদিয়া সুলতানা, উম্মে হাবিবাহ ও লাউকিয়া তঞ্চঙ্গ্যা জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় তারা ৩০ নম্বরের এমসিকিউ অংশে যে প্রশ্নপত্র পান, তা পরীক্ষা শেষে পর্যালোচনা করে দেখতে পান সেটি ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র। প্রশ্নগুলো অস্বাভাবিক কঠিন মনে হওয়ায় অনেকেই ধারণার ভিত্তিতে উত্তর দেন। পরে উত্তর মিলিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ উত্তরই ভুল হয়েছে। এতে ফলাফল নিয়ে তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র বিতরণ ও প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের কাজ সম্পন্ন করলেও পরীক্ষার চাপের মধ্যে তাদের পক্ষে প্রশ্নপত্রের বছর বা ধরন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালেই ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের নজরে আনা হলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলেন।

তবে হল পরিদর্শক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন দাবি করেন, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষে আটজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমস্যা ধরা পড়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়।

কলেজের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কেন্দ্রে ১১টি পরীক্ষার হলে দুটি কলেজের মোট ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ২১ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বান্দরবান আসনের এমপি প্রতিনিধি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানী বলেন, সরকার মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বললেও শিক্ষকদের এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা অমার্জনীয়। দ্রুত বিষয়টির সমাধান করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ মো. ওসমান বলেন, কিছু সমস্যার কথা শুনেছেন। তবে এত বড় পরিসরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে আগে জানতেন না। হল পরিদর্শকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল।

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ