২১ অক্টোবর ২০২৬

‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর নিয়ে অসন্তোষ, এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চল নিয়ে অনুমোদিত নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলম মাসুদ। তিনি বলেন, সরকারের ১২১তম নিকার সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার অনুমোদন দেওয়ায় স্থানীয়রা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান উপজেলা সদর থেকে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ বৈষম্য দূর করতেই বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভূজপুর ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়।

তাদের দাবি, গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভূজপুরে সদর স্থাপনের যৌক্তিকতা নেই। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জনমতের তোয়াক্কা না করে দক্ষিণাঞ্চলের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত ও সরকারের প্রাথমিক প্রস্তাবে সুয়াবিল ইউনিয়নের নাম ছিল না। পরবর্তীতে বিশেষ একটি মহলের প্রভাবে এটি যুক্ত করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

বক্তারা জানান, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের এই অঞ্চলের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নারায়ণহাট-দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি করা হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাকিবুল আলমি চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, উত্তর জেলা জামায়াত নেতা আব্দুল জব্বার, খাইরুল খোমেনি, অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিরাজ, খালেদুল আনোয়ার, অ্যাডভোকেট কায়সার হামিদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহেদুল আলমসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ