২৩ অক্টোবর ২০২৬

বাধ্যতামূলক অবসরে ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা

পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ৩৩ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। রোববার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৭ জন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) এবং দুইজন পুলিশ সুপার (এসপি)। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের এ অবসর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার যদি জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করে, তাহলে কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত আর্থিক সুবিধা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা লাভ করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বিন্যাস ও শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পুলিশ বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশকে একযোগে অবসরে পাঠানো হলো।

একসঙ্গে এতসংখ্যক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি পর্যায়ের ৩১ কর্মকর্তাকে একই প্রজ্ঞাপনে অবসরে পাঠানোর ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের বাইরে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ঠিক কী বিবেচনায় এসব কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা সরকারকে জনস্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিলেও প্রতিটি বাধ্যতামূলক অবসরের পেছনে প্রশাসনিক মূল্যায়ন, সাংগঠনিক প্রয়োজন কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্ত কাজ করে থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারণ প্রকাশে আইনগতভাবে বাধ্য নয়।

এদিকে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর পুলিশ প্রশাসনে নতুন পদায়ন ও পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শূন্য হওয়া পদগুলোতে শিগগিরই নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন