২১ অক্টোবর ২০২৬

কাস্টমস সার্ভার হ্যাক করে মদ-সিগারেট খালাসের চেষ্টা, চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

কাস্টমসের সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি এবং চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশি মদ ও সিগারেট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি শেখ সেজান (২৬)। গত ১৫ জুলাই নেপাল পালানোর সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিএমপি জানিয়েছে, চট্টগ্রামের বন্দর থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তে শেখ সেজানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন কাস্টমসের ASYCUDA World System এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পোর্টালে অবৈধভাবে প্রবেশ করে অন্যের ইউজার আইডি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনা করত। এর মাধ্যমে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনারে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ আনার অভিযোগ রয়েছে। অপর মামলায় একটি কনটেইনারে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাসের চেষ্টা করা হয়।

সিএমপি জানায়, মামলাগুলোতে আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেখ সেজানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তিনি তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ প্রবেশে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

তদন্তে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে সার্ভারে লগইন করা হয়। পরে একই আইডি ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালান-সংক্রান্ত মামলায় এলসি-জিআই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে নড়াইলের লোহাগড়া থানার এলাকায় শেখ সেজানের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যান। ওই সময় তার বাড়ি থেকে ASYCUDA World System-এ অবৈধ প্রবেশ এবং এলসি-আই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সিএমপি আরও জানায়, শেখ সেজান এর আগেও সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন ও টিকা সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধে সিএমপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটিটিসির অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সাতটি মামলা রয়েছে।

এদিকে, এ দুই মামলার তদন্তে এর আগে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড-এর পরিচালক ও চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন ও বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান এবং চক্রের সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ ওরফে আরিফ এবং বড় রাজুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ