২১ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে বিহা সভাপতি এমপি নাসের

‘দেশের আতিথেয়তা শিল্প দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে’

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) নবনির্বাচিত সভাপতি নাসের রহমান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের আতিথেয়তা শিল্প দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কক্সবাজারের পরিচিতি থাকলেও পর্যটকদের এক দিনের বেশি অবস্থান বা পুনরায় ফিরে আসার মতো পর্যটন আকর্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি। এর সঙ্গে রয়েছে যাতায়াতের নানা ভোগান্তি।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন খাতের বিদ্যমান শূন্যতা দূর করে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিহা কাজ করবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের শাহসুজা হলরুমে বিহার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসের রহমান বলেন, পর্যটনের রূপান্তরের ধারায় বিহা ঐক্য বজায় রাখা, সেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা এবং টেকসই ও বিশ্বমানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করবে। বিশ্বপর্যটন বাজারে বাংলাদেশকে একটি প্রিমিয়াম গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার পর্যটনবান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। বিহা অতীতে ‘পকেট সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত ছিল— এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হোটেলসংশ্লিষ্টদের বাইরে সদস্যপদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। নতুন কমিটি এসবের পরিবর্তে হোটেল খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে।

বিহা সভাপতি বলেন, ‘আমরা ভালো কিছু করতে চাই। সদস্যসংখ্যা যত বাড়বে, সরকারের সম্পৃক্ততাও তত বাড়বে। কক্সবাজারের তিন, চার ও পাঁচ তারকা মানের হোটেলগুলো বিহার সদস্য হলে এখানকার পর্যটন উন্নয়নে সরকারের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, কক্সবাজারের আতিথেয়তানির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো সংগঠনের সদস্য না হলে এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কার্যকরভাবে কথা বলার সুযোগ সীমিত থাকবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও পর্যটন খাতের দাবিগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা কঠিন হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এ খাতের প্রসারে কক্সবাজারে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে সমন্বিত নীতিমালা ও কার্যকর চালিকাশক্তির অভাবে হোটেল-রিসোর্টসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন বিভাগ নানা নিয়মকানুনের দোহাই দিয়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হয়রানি করছে। পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান ‘নীরব হয়রানির’ শিকার হচ্ছে।

আবদুল কাদের মিশু আরও বলেন, নানা ধরনের হয়রানির কারণে করপোরেট বাণিজ্যের বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কক্সবাজারের প্রতি আগ্রহ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। নতুন নেতৃত্ব শিল্পসংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসনিক অযাচিত হয়রানি বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের যানজট, অপরাধ, মাদক ও পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণাসহ বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরেন বিভিন্ন তারকা হোটেলের দায়িত্বশীলরা। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানান তারা।

অনুষ্ঠানে বিহার প্রথম সহসভাপতি আহমদ ইউছুপ ওয়ালিদ, পরিচালক আরিফুর রহমান, আহমেদ হোসাইন, সাঈদ আহমদ ও রাশেদ মাহমুদসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন তারকা হোটেল ও রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), জেনারেল ম্যানেজার ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ