২১ অক্টোবর ২০২৬

অতি ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধস, সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় হঠাৎ অতি ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের দুটি অংশে পাহাড়ধসে মাটি পড়ায় সাজেক ভ্যালির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার সকাল থেকে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। পাহাড়ধসে সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি সরাতে কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় উপজেলায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টির ঘটনা আর ঘটেনি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।

অতি ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার মেরুং, কবাখালী, হামতলী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক জায়গায় আমনের খেতও পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

জামতলী এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের ভেতর পানি দেখতে পান তিনি। তাঁর ভাষ্য, গত মাসের বন্যাতেও তাঁদের ঘরে পানি ওঠেনি। কিন্তু এবারের রাতের বৃষ্টিতে আশপাশের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অনলেন্দু ত্রিপুরা জানান, শুক্রবার রাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও তেমন পানি ছিল না। তবে রাতের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি বদলে যায়।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা বলেন, তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত কম সময়ে এমন বৃষ্টিপাত আর হয়নি।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় পাহাড়ধসে সড়কের ওপর মাটি পড়েছে। ধসের অংশ বেশ বড় হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হলে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ