চট্টগ্রামের পটিয়ায় একাধিক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার নাইখাইন, ভাটিখাইন, মালিয়ারা, হুলাইন, আশিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় রোববার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, মোবাইল ফোন চার্জসহ দৈনন্দিন নানা কাজেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের মধ্যে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নাইখাইন গ্রামের একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তানভীর বলেন, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। সময়মতো অর্ডার অনুযায়ী পণ্য তৈরি ও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকদেরও বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।
শাহগদী মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। দোকানে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। গরম ও অন্ধকারের কারণে ক্রেতারাও বেশিক্ষণ দোকানে অবস্থান করছেন না। এতে বিক্রি কমে গেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী বখতিয়ার উদ্দিন বকুল বলেন, ‘আমার গ্রামেও সকাল থেকেই বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জানতে পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ নম্বরে এবং জিএমের নম্বরে বারবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু জিএম ফোন রিসিভ না করে বারবার কল কেটে দিয়েছেন।’
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণ ও কখন সংযোগ স্বাভাবিক হবে— এ বিষয়ে জানতে পটিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।














