১৩ অক্টোবর ২০২৬

কাগতিয়া দরবারে ৭৩তম ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিলে মোর্শেদে আজম

‘মিলাদে মোস্তফার চিরন্তন চেতনা গাউছুল আজমের তরিক্বত’

চট্টগ্রাম কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে ৭৩তম পবিত্র জশ্নে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাদে জোহর দরবার শরীফে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব বলেন, ‘মিলাদে মোস্তফার চিরন্তন চেতনা হযরত গাউছুল আজম (রা.)-এর তরিক্বত।’

তিনি বলেন, মহান আল্লাহপাক ভালোবেসে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন এবং আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের ভয়াবহ সময়ে নবীদের নবী, খোদার হাবীব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.) পৃথিবীতে আগমন করে মানবজাতিকে একমাত্র আল্লাহর আনুগত্য, চারিত্রিক কোমলতা, সবর-শোকর, তাকওয়া-তাওয়াক্কুল, তাহারাত ও তওবার আলোকে জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নবীজি (দ.)-এর পর মহান এ দায়িত্ব তাঁর ওয়ারিশ তথা অলি-আল্লাহগণ পালন করে আসছেন। কালের পরিক্রমায় এমন এক মহান ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হয়েছে, যিনি মকামে গাউছিয়্যতে আসীন হয়ে খলিফায়ে রাসূল (দ.)-এর মর্যাদা পেয়েছেন।

মোর্শেদে আজম বলেন, মানবজাতির ক্রান্তিকালে হযরত গাউছুল আজম (রা.)-এর পক্ষ থেকে ‘হে যুবক নামাজ পড়, রোজা রাখ, নবী করিম (দ.)-এর উপর দরূদ পড় এবং মাতৃভূমি শান্ত কর’— এ মহান আহ্বান এসেছে। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে অগণিত যুবক নামাজ, দরূদ শরীফ, মোরাকাবা, তাহাজ্জুদ, ফয়েজে কোরআন ও জিকিরে জলির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সাধনায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি বলেন, যে যুগে হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে, সে যুগে যুবকদের মধ্যে ইবাদতের এমন আগ্রহ নিঃসন্দেহে হযরত গাউছুল আজমের দৃশ্যমান দস্তগীরি এবং মহান আল্লাহপাকের অনুগ্রহ।

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর আদর্শে উজ্জীবিত হযরত গাউছুল আজমের তরিক্বত একজন মানুষকে শুধু রবিউল আউয়াল মাসে নয়, বরং সারা বছর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নবীজির সুন্নাহ অনুসরণের শিক্ষা দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর।

এতে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. জালাল আহমদ, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সবুর ও মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানি ফয়সাল।

পরে মিলাদ-কিয়াম শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রহ.)-এর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ