২৩ অক্টোবর ২০২৬

সিআইপি নির্বাচনে নতুন নীতিমালা

দেশের অর্থনীতি, জাতীয় আয়, শিল্পায়ন, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) মর্যাদা দেয় সরকার। এবার সিআইপি (শিল্প) নির্বাচনে ব্যবসার আকারের পাশাপাশি পরিমাপযোগ্য ও যাচাইযোগ্য অবদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২০০৮ সালের নীতিমালা সংশোধন করে ২৩ আগস্ট ‘বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (শিল্প) নির্বাচন নীতিমালা ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় সিআইপি নির্বাচনের জন্য উৎপাদন, বিনিয়োগ, মুনাফা, কর ও ভ্যাট পরিশোধ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, পরিবেশ সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন সূচকে নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, শিল্প খাতে প্রতি বছর বেসরকারি পর্যায়ে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে সিআইপি নির্বাচিত হবেন। জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের (এনসিআইডি) পদাধিকারী বেসরকারি সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট কোটার পাশাপাশি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।

শিল্প খাতে সিআইপির সংখ্যা ৫৫ জনে সীমিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহৎ শিল্পে উৎপাদন খাতে ১৫ ও সেবা খাতে পাঁচজন, মাঝারি শিল্পে উৎপাদনে ১০ ও সেবায় তিনজন এবং ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদনে চার ও সেবায় দুজন নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে পাঁচ, হাইটেক শিল্পে তিন, লজিস্টিকস ও পর্যটন শিল্পে দুজন করে এবং মাইক্রো ও কুটির শিল্পে দুজন করে সিআইপি নির্বাচিত হবেন।

১০০ নম্বরে মূল্যায়ন
সিআইপি নির্বাচনে প্রাথমিক বাছাই কমিটি ও চূড়ান্ত মূল্যায়ন কমিটি থাকবে। তারা বিভিন্ন সূচকে মোট ১০০ নম্বরে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন করবে। বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে প্রকৃত উৎপাদনে ২০, পরিশোধিত মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি মোট বিনিয়োগে ১০, কর ও ভ্যাট পরিশোধে ১৫, জনবলে ১০, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ১০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১০ নম্বর থাকবে। এ ছাড়া ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, রপ্তানি আয়, স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং অন্যান্য সহযোগী সূচকে নম্বর থাকবে।

ক্ষুদ্র শিল্পে প্রকৃত উৎপাদন ও স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেবাখাতে মোট বিনিয়োগে ২৫, কর ও ভ্যাট পরিশোধে ১৫, লেনদেনে ১০ এবং আয়কর-পূর্ববর্তী মুনাফায় ১০ নম্বর রাখা হয়েছে।

মেধাস্বত্ব, প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, পরিবেশ ও মানদণ্ডও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এবার ব্যবসার আকারের চেয়ে উদ্যোক্তার প্রকৃত অর্থনৈতিক অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ, মুনাফা, কর প্রদান, স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার, মান বজায় রাখা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যেসব সুবিধা পাবেন সিআইপিরা
সিআইপি মর্যাদা পাওয়া ব্যবসায়ী এক বছর বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া পরিচয়পত্র সচিবালয়ে প্রবেশের পাস হিসেবে গণ্য হবে। জাতীয় অনুষ্ঠান ও সিটি করপোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন তিনি।

ব্যবসায়িক কাজে আকাশ, রেল, সড়ক ও নৌপথে সরকারি পরিবহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার পাবেন। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে চিঠি দেবে। নিজে, স্ত্রী ও সন্তানদের সরকারি হাসপাতালে কেবিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকবে। বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সরকার চাইলে মেয়াদকালে শিল্পবিষয়ক নীতিনির্ধারণী কমিটিতে তাঁকে সদস্য করতে পারবে।

কারা হতে পারবেন না
ঋণখেলাপি, যথাযথভাবে শুল্ক, ভ্যাট বা আয়কর পরিশোধ না করা ব্যক্তি সিআইপি হতে পারবেন না। বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে শিল্প বিরোধ থাকলে এবং তা নিষ্পত্তিতে আগ্রহী না থাকলেও আবেদন করা যাবে না। ফৌজদারি অপরাধে সাজা হওয়ার পর পাঁচ বছর না পেরোলেও অযোগ্য হবেন।

এ ছাড়া শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তি, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন বা লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাও সিআইপি হওয়ার সুযোগ পাবেন না। আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দিলে পরবর্তী তিন বছর আবেদন করা যাবে না।

একই বছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অন্য কোনো পুরস্কার বা অন্য মন্ত্রণালয়ের সিআইপি মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তি এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হতে পারবেন না। এক বছর সিআইপি নির্বাচিত হলে পরবর্তী দুই বছরও এই মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব ফাঁকির জন্য কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সরকার জরিমানা করলে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক, উদ্যোক্তা পরিচালক বা চেয়ারম্যানও আবেদন করতে পারবেন না।

প্রতি বছর ১৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ ও বাছাইয়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তালিকা তৈরির পর বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হবে।

আরও পড়ুন