যুদ্ধের ময়দান ছিল তাঁর জীবনের এক দীর্ঘ অধ্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তানের দুই যুদ্ধ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্যও তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে জীবন উৎসর্গ করা সেই বীর সেনানি ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ডা. (ক্যাপ্টেন) আহমেদ কবির ভূঁইয়ার ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে তাঁর নিজ বাসভবনে পবিত্র কোরআন খতম ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ডা. (ক্যাপ্টেন) আহমেদ কবির ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। মিলাদ মাহফিল শেষে শহীদ ডা. আহমেদ কবির ভূঁইয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ আহমেদ কবির ভূঁইয়ার বীরত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর সাহস ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া আহমেদ কবির ভূঁইয়া সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মিলিটারি অফিসার ছিলেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি একাধিক যুদ্ধে অংশ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫), ভারত-পাকিস্তানের প্রথম যুদ্ধ (১৯৪৭-১৯৪৮), ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং সর্বশেষ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের বাঁশতলা-সেলা সাব-সেক্টরের অধীন মুক্তিবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট মহব্বতপুর সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শাহাদাতবরণ করেন ডা. (ক্যাপ্টেন) আহমেদ কবির ভূঁইয়া।
রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত তিনি। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের গেজেটেও রয়েছে তাঁর স্বীকৃতির তথ্য। এছাড়া ২০০৯ সালের ১২ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
চারটি যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই বীর সেনানির জীবন ও আত্মত্যাগ আজও দেশের ইতিহাসে সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মোৎসর্গের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।














