২১ অক্টোবর ২০২৬

সীতাকুণ্ডে জাল দলিল করে জমি দখলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাল বণ্টননামা দলিল তৈরি করে বসতভিটা দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানার একটি দল উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়ামরা এলাকার আহম্মদ মিঞার ছেলে মো. ওমর ফারুক, আবু তাহের লিটন, আবদুল কাদেরের ছেলে মাসুদ পারভেজ শাহেদ এবং আবদুল নবির ছেলে মো. নাঈম উদ্দিন।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে বুধবার রাতে সোনাইছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল দলিল সৃজনের মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে।’

মামলার নথি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭৯৪৮ নম্বরের একটি কথিত বণ্টননামা দলিল তৈরি করেন। ওই দলিলে কুমিরা মৌজার ১০ শতক বসতভিটা জমি নিজেদের নামে দেখানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দলিলে জমির মালিক মৃত আবদুল হককে চতুর্থ পক্ষ হিসেবে দেখানো হলেও তিনি ওই দলিল সম্পাদনের সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো স্বাক্ষর বা টিপসই দেননি। তাঁর পাসপোর্টে থাকা স্বাক্ষরের সঙ্গে দলিলে ব্যবহৃত স্বাক্ষরেরও অমিল রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিআইডি মামলাটির তদন্ত ও অনুসন্ধান পরিচালনা করে। গত ২৭ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর ৩১ আগস্ট আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মামলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আসামিরা বাদীর পিতা আবদুল হকের টিপসই জাল করে কথিত দলিল তৈরি ও জমি রেজিস্ট্রি করানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা দলিলটি আসামিরা দীর্ঘদিন গোপন রাখেন। পরে আবদুল হক ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মারা যাওয়ার পর ওই দলিল প্রকাশ্যে এনে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া দলিলের তৃতীয় সাক্ষী মো. সাইফুলকে ওয়ারিশি আপস-বণ্টনের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়া এবং দ্বিতীয় সাক্ষী মাসুদ পারভেজ শাহেদের ক্ষেত্রে দলিলে আংশিক নাম ‘মো. শাহেদ’ ব্যবহার করে তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিসের একটি বিবিধ মামলায় দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়া জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উল্লেখ করেন, কথিত বণ্টননামা দলিলে আবদুল হকের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি ছিল না।

মামলার বাদী নুরুল ইসলামের অভিযোগ, চার আসামিকে গ্রেপ্তারের সময়ও তারা পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি জামিনে বের হয়ে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ