১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনসিপি নেতা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসার অভিযোগ

আনোয়ারায় এনসিপি নেতা মো. দেলোয়ারের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা। মারামারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা দাবি করে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. আজম খাঁন। তার দাবি, এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় তাকে হয়রানি করতে ওই মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালাবিবির দিঘীর মোড় এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন আজম খাঁন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজম খাঁন বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা উপজেলার চাতরী-চৌমুহনী বাজারের হাজী এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী ও কাঁচাবাজার ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনোয়ারা মেডিকেলে গিয়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

আজম খাঁনের অভিযোগ, তার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর এনসিপি নেতা মো. দেলোয়ার হোসাইন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চাপাতি দিয়ে হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি আনোয়ারা মেডিকেলে অবস্থান করছিলেন। তখন আনোয়ারা থানার এসআই মুবিন এবং হাজী এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দুজন ব্যবসায়ীও তার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

আজম খাঁন হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। এদিকে এনসিপি নেতা মো. দেলোয়ারের বিরুদ্ধে চাতরী-চৌমুহনী বাজারের এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্র দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. ফোরকান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে চাতরী-চৌমুহনী বাজারের একটি দোকান নিয়ে দেলোয়ারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয়। ওই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দেলোয়ারসহ তার গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে দৌড়ে নিয়ে এলাকার একটি কবরস্থানে অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন। পরে তার ভাইকে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ফোরকানের অভিযোগ, এনসিপি নেতা দেলোয়ারের বাড়ি বাঁশখালী হলেও আনোয়ারায় ঘরজামাই থেকে তিনি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন। তার নির্যাতনে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ বলেও দাবি করেন তিনি।

এনসিপি নেতা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে কর্ণফুলী থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া আনোয়ারা ও বাঁশখালী থানায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা ছিল। তবে ওই মামলায় কোনো ওয়ারেন্ট হয়নি। নতুন করে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন