১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বকেয়া আদায়ে গতি, চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব ২৬ কোটির ঘরে

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) মাসিক রাজস্ব আদায় টানা দুই মাসে ২৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আটটি বিশেষ দল গঠন করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার পর এই আদায় বেড়েছে।

বকেয়া আদায়ে যুক্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সম্মাননা দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সংস্থাটির বোর্ড রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট এবং দলের সদস্যদের সনদ দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার আগস্ট (২০২৬) মাসের রাজস্ব আদায়ের হিসাব অনুযায়ী, গত মাসে সংস্থাটির মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার ২৩৩ টাকা। এর মধ্যে পানির বিল বাবদ আদায় হয়েছে ২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে চলতি বিল ১২ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং বকেয়া বিল থেকে ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

এ ছাড়া সারচার্জ থেকে ৮৩ লাখ টাকা, গভীর নলকূপ ফি ৪৭ লাখ টাকা এবং নতুন সংযোগ খাত থেকে ৪৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে আদায় হয়েছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

বকেয়া আদায়ে সম্প্রতি আটটি দল গঠন করে ওয়াসা। যেসব গ্রাহকের ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া আছে, তাদের সংযোগ সরেজমিন পরিদর্শন করে বকেয়া আদায় করছে দলগুলো। গত দুই মাস ধরে চলা এ কার্যক্রমে বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ, ডাটাবেজ সমৃদ্ধ করা এবং অবৈধ সংযোগ ও লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেছেন, ‘রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গঠিত দলগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে। এর আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া আদায়ে কাজ করা হয়েছে। এবার ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়াধারীদের নিয়ে কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে।

আরও পড়ুন