২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজার কলেজের হোস্টেলে ইয়াবাসহ নারী শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল ‘দোলনচাঁপা’ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতায় হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর নাম শরিফা (২১)। তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায়। স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শরিফার বাবা একটি মাদ্রাসার সুপার।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শরিফার হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফা দাবি করেছেন, হ্নীলা থেকে তার এক ‘আন্টি’ পার্সেলের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। পরে সেগুলো তার হেফাজতে রাখা হয়। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ইয়াবা পাচার ও সংরক্ষণের ঘটনায় একটি চক্র জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রীদের তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হোস্টেলটিতে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই এবং সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই।

স্থানীয়দের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরিফার পারিবারিক ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তার বাবা সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শরিফার বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো দৃশ্যমান তথ্যও তারা জানতেন না। ফলে ইয়াবাগুলো তার হেফাজতে কীভাবে এলো, সে বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি উঠেছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষাজীবনে থাকা তরুণদের মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও হোস্টেল সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন