চট্টগ্রামের পটিয়ায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সাদিয়া সুলতানা সেতু (২২) নামে এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হলেও সময়মতো কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন সাদিয়া।
রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে সাদিয়ার সদ্যোজাত সন্তান সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
সাদিয়া সুলতানা সেতু পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ছত্তর মার্কেট এলাকার প্রবাসী জসীম উদ্দীনের স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে প্রসববেদনা উঠলে সাদিয়াকে পটিয়া সদরের শেভরন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, সিজার শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। কিন্তু পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার পরও রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং সাদিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলেও বিষয়টি স্বজনদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
একপর্যায়ে সাদিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সেখানে নেওয়ার পরও শেষরক্ষা হয়নি। রোববার রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাদিয়া।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সুস্থ প্রসূতি থেকে মৃত্যু, এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন স্বজন ও স্থানীয়রা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেভরন হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতের ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও চিকিৎসকরা তা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। চিকিৎসকের অবহেলাই আমার বোনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।’
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন পটিয়া শেভরন হাসপাতালের চিকিৎসক মিনি বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। সিজারের পর রক্তক্ষরণ হওয়া একটি জটিলতা হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। পটিয়ায় পর্যাপ্ত আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা না থাকায় আমরা দ্রুত রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করি।’
এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, প্রসূতির মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













