চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী স্লোগান, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর)-সোহেল পারভেজ এর তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই মো. আনিসুজ্জামান সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে এ অভিযান চালান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে বায়েজিদ থেকে অক্সিজেনগামী পাকা সড়কের বজল সওদাগর মার্কেটের ইমাম ট্রেডার্সের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিছিলে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম জহির এবং মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলো— রাব্বি হোসেন ওরফে আদি (২৩), মো. আব্দুর নুর ওরফে আব্দুল্লাহ (৩৭), মো. জাহিদুল ইসলাম রিফাত ওরফে রিফাত ইয়াছিন (২২), মো. সাব্বির হোসেন (৩০), জহিরুল ইসলাম জহির (৩১) ও পারভেজ (২৯)।
পুলিশের তথ্যমতে, রাব্বি হোসেন বায়েজিদ বোস্তামী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, আব্দুর নুর সীতাকুণ্ড থানাধীন ছিন্নমূল ২ নম্বর সমাজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি, জাহিদুল ইসলাম রিফাত বায়েজিদ বোস্তামী থানা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং সাব্বির হোসেন বায়েজিদ বোস্তামী থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাদের সহযোগী পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রসারের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছিলেন।
এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ১৯ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয় এবং মামলা নম্বর-২৪। এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(২), ৮, ৯, ১০, ১২, ১৩ ও ১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।












