২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষোভের আগুনে পুড়ল গবাদিপশু আর ভাড়া বাসা

কর্ণফুলীতে মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় যুবককে কুপিয়ে রক্তাক্ত

মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই যেন ‘অপরাধ’! চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ইয়াবা বিক্রির প্রতিবাদ করায় মো. মহিউদ্দিন (২৪) নামে এক যুবককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর এলাকায়

উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মাদক বিক্রির অভিযোগে মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় আগুন ও ভাঙচুর চালিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। আগুনে পুড়ে মারা গেছে একটি গবাদিপশু।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মাষ্টারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত মহিউদ্দিন শিকলবাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আহছানিয়া পাড়া এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে তিনি ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, মাদক নির্মূলের উদ্যোগে কয়েকদিন আগে আহছানিয়া পাড়ায় একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করা হয়। মহিউদ্দিন ওই সংগঠনের সদস্য। মাদকের বিরুদ্ধে এলাকায় সোচ্চার হওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর মাষ্টারহাট এলাকায় মহিউদ্দিনের সঙ্গে ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইব্রাহিম ধারালো দা দিয়ে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। ইব্রাহিম মুজিবুর রহমানের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা মুজিবুর রহমানের ভাড়া বাসায় গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর চালায়। এতে ঘরে থাকা একটি গবাদিপশু পুড়ে মারা যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আহত মহিউদ্দিনের ফুফাতো ভাই শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ইব্রাহিম আমার ভাইকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’’

তবে মুজিবুর রহমান ও ইব্রাহিমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মহিউদ্দিন ও ইব্রাহিমের মধ্যে বিরোধের জেরে মহিউদ্দিনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরপর উত্তেজিত জনতা মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আগুন দেয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন