২ অক্টোবর ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা

শুল্কমুক্ত মদ অননুমোদিত গুদামে মজুদের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ যৌথ অভিযান চালিয়ে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ অভিযান পরিচালনা করে।

এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত বা ঘোষিত গুদাম রয়েছে দুটি। তবে অভিযানে সেখানে মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুদের তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গুরুতর অসংগতি পাওয়ায় অধিকতর যাচাই ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ‘টস বন্ড’ একটি কূটনৈতিক গুদাম, যেখান থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করা হয়। তবে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও আয়কর গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে কানাডায় নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব এবং সেখানে বিভিন্ন লেনদেন ও কোম্পানির মালিকানার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কানাডা থেকে সংগ্রহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত পরিবারের আর্থিক লেনদেনের ১৬৩টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ওই সময়ের মধ্যে এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি বাংলাদেশের কর নথিতে উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, নুর ইসলামের বিভিন্ন ব্যবসা, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগে থেকে অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি শুল্কসংক্রান্ত বিষয় থাকায় সমন্বিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত গুদামে স্থানান্তর বা অপসারণ ঠেকানো এবং তদন্তের স্বার্থে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত যাচাই ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, গুদাম সিলগালার এই কার্যক্রম সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; প্রতিষ্ঠান ও এর মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক ও করসংক্রান্ত বিষয়ে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছিল।

আরও পড়ুন