৫ অক্টোবর ২০২৬

মিরসরাইয়ে স্টিল কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, চীনা প্রকৌশলীসহ নিহত ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফারম্যাক স্টিল লিমিটেড কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটিতে গলিত লোহা ছিটকে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের এ দুর্ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন— চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩), শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) ও মনির হোসেন (২৭)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্ঘটনার পর শরিফুল ইসলাম ও চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ অক্টোবর সকালে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা যান শরিফুল ইসলাম। একই দিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় মনির হোসেনের। সর্বশেষ ২ অক্টোবর সকালে ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা যান চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং।

নিহত শরিফুল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত জুয়েল (৩৬) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

এদিকে নিহত শরিফুল ইসলামের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানায় নিহতের স্বজন এবং কারখানার চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।

শরিফুলের চাচা মনির হোসেন বলেন, তাঁরা মামলা করতে চান না। পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চান।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজন মারা গেছেন। কারখানার প্রতিনিধি ও নিহতদের স্বজনেরা থানায় এসেছিলেন। তাঁদের আইনি বিষয় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ আইন অনুযায়ী মামলা করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো বয়লার দুর্ঘটনা নয়। ফার্নেসের ত্রুটির কারণে চুল্লি থেকে গলিত লোহা ছিটকে পড়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন