২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্লাস্টিক দিলেই চিড়িয়াখানায় প্রবেশ, সুযোগ পেল ৪০০ শিক্ষার্থী

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছে চার শতাধিক শিক্ষার্থী। প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গত সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এ কার্যক্রমে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। যেখানে সাধারণ প্রবেশমূল্য ৭০ টাকা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক নিয়মিত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করবে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন ও ইপসার মধ্যে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য এ সমঝোতা কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানার এ উদ্যোগ দেখে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে তাঁকে ফোন করে প্লাস্টিক সংগ্রহের আগ্রহ জানিয়েছেন। সংগৃহীত প্লাস্টিক কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন তাঁরা। তবে দেশে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক সংগ্রহে মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে দেশে পুনর্ব্যবহারের একটি বড় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সবাই যদি আন্তরিকভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে, তাহলে ভবিষ্যতে এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হতে পারে। তবে প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

উদ্যোগটির উদ্দেশ্য তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবেশমূল্য হয়তো অনেক শিক্ষার্থীই দিতে পারবে। কিন্তু প্লাস্টিক সংগ্রহ করে চিড়িয়াখানায় আসার মধ্য দিয়ে তারা পরিবেশ ও সমাজের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভাবার সুযোগ পাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করা। সমঝোতা স্মারকটির পরিসর ছোট হলেও এর প্রভাব অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার ক্ষেত্রে বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পাটসহ প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রায় ১৫০টি ডাবগাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে আগে না থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীও আনা হয়েছে, যা চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশুরা চিড়িয়াখানায় এসে পশুপাখি দেখুক এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানুক। কিছুটা সময় মুঠোফোনের পর্দা থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনের আনন্দ উপভোগ করুক। এ বার্তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। ইপসার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসন ও ইপসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ