৩১ অক্টোবর ২০২৬

স্যালাইন হাতে মধ্যরাতে থানায় আহত যুবদল কর্মী

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিন নামে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সৈয়দ আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর স্যালাইন হাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে থানায় গিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন তিনি। এদিকে, হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন মো. মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে গণধোলাই দেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব রতনপুর মৌলভী বাজার এলাকায় মো. মহসিন ও তাঁর সহযোগী আবু তাহেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে যুবদল কর্মী সৈয়দ নূরের ওপর টর্চলাইট দিয়ে অতর্কিত হামলা চালান মহসিন। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আরেক যুবদল কর্মী সৈয়দ আমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন আবু তাহের।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় মহসিনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহত সৈয়দ নূর অভিযোগ করেন, মহসিন ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার পর গুরুতর আহত সৈয়দ আমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে রাত ১২টার পর হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পটিয়া থানায় হাজির হন তিনি। নিজের ক্ষত দেখিয়ে হামলার বিচার দাবি করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দেখা করেন বলে জানান সৈয়দ আমিন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কফিল উদ্দীন বলেন, মহসিন ও আবু তাহেরের মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় সৈয়দ নূর ও সৈয়দ আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।

পটিয়া যুবদলের সংগঠক মো. সাখাওয়াত বলেন, আহত দুজনই যুবদলের কর্মী। মাদক কারবারিরা তাঁদের মারাত্মকভাবে জখম করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

পটিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আল-আমিন জানান, মাদক উদ্ধারের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে পুলিশ ওই এলাকায় গেলেও কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। গণধোলাইয়ের শিকার মহসিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন