৪ নভেম্বর ২০২৬

রাউজানে ৮ বিদেশি পিস্তল নিয়ে যুবকের হুমকি, ভাইরাল ভিডিও

সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের রাউজানে এবার আটটি বিদেশি পিস্তল প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের প্রাথমিক শনাক্তকরণ অনুযায়ী, ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনকারী ব্যক্তি রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবউল্লাহ পাড়া এলাকার বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে, প্রদর্শিত অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট হওয়া। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে একটি টেবিলের ওপর আটটি বিদেশি পিস্তল সাজিয়ে রাখতে দেখা যায়। এ সময় এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছ কোথায়? প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্ব উল্টে ফেলবো। তোদের জন্য টাকা দিয়ে এনেছি মরণের টিকিট।’ কথাগুলো বলার সময় পিস্তলগুলোর ওপর আঙুল নাড়তে দেখা যায় তাঁকে।

ভিডিওতে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘মনে রেখো, সময় থাকতে ভালো হয়ে যাও। সময় থাকতে তোরা ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে ফেলবো বলে দিলাম। আমি তুফান।’

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সে আগেও গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছে।’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, হৃদয় ওরফে বুলেট রাউজানের পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাঁর বাড়ি বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবউল্লাহ পাড়ায় হলেও শ্বশুরবাড়ি পাহাড়তলী ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামে। সেখানেও তাঁর একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাটি-বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির অর্থের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, রাউজানের নোয়াপাড়া ও পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন