৯ নভেম্বর ২০২৬

ব্লাস্টের নারী কর্মীর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার মানহানি মামলা বিজিবি’র

কক্সবাজার প্রতিনিধি  »

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্লাস্টের এক নারী কর্মীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বিজিবির পক্ষে টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের দমদমিয়া তল্লাশি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত জেসিও নায়েব সুবেদার মোহাম্মদ আলী মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে এনজিও ব্লাস্টের কর্মী ফারজানা আকতারকে (২৮)। সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে টেকনাফ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদী মামলার আর্জিতে উল্লেখ করেছেন, বিজিবি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনা একটি বাহিনী। এমন একটি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আসামী এনজিও নারী কর্মী অহেতুক উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে গণধর্ষণের মতো মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছেন, যা বিজিবির মতো একটি বাহিনীর ভাবমূর্তিতে মারাত্মকভাবে আঘাত হেনেছে। এ জন্যই বিজিবি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

মামলার বাদীর আইনজীবী সাজ্জাদুল করিম ও অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ জানান, আসামি ফারজানা আকতার ব্লাস্টের কক্সবাজারের টেকনাফর হ্নীলা শাখার কর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি অন্যান্য দিনের মতো গত ৮ অক্টোবর সকালে হ্নীলা থেকে সিএনজিচালিত ট্যাক্সিতে চড়ে টেকনাফ উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দমদমিয়া বিজিবি তল্লাশি ফাঁড়িতে যথারীতি সিএনজিটি থামানো হয়। সিএনজির পাঁচজন যাত্রীর মধ্যে অন্য চারজন যথারীতি নেমে নিয়মমাফিক তল্লাশির কাজ সারেন। কিন্তু ওই নারী নিজেকে ব্লাস্ট এনজিওর কর্মী পরিচয় দিয়ে দাম্ভিকতা দেখিয়ে তল্লাশি এড়ানোর চেষ্টা করতে থাকায় বিজিবি সদস্যদের কাছে সন্দেহ হয়।

পরে বিজিবির নারী সদস্যরা এসে তাঁকে সিএনজি থেকে নামিয়ে তল্লাশি কক্ষে নিয়ে নিয়মমতো চেক করেন। এতে এনজিও কর্মী ফারজানা বিজিবির ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ফাঁড়ির পুরুষ সদস্যরা তাকে গণধর্ষণ করেছেন মর্মে অভিযোগ তোলেন। এমনকি তিনি ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে টেকনাফ থানায় বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করতে যান। কিন্তু এমন মামলায় মেডিক্যাল সনদ দরকার জানালে ওই নারী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের ততকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ড তাকে পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সনদ দেন। এ বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বরাত দিয়ে সংবাদও প্রচার করেন। পরে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো তাদের অনলাইন থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেন। কিন্তু এরই ভেতর সারা পৃথিবীর অগণিত পাঠক মিথ্যা এ অভিযোগ জেনে বিভ্রান্ত হন এবং একটি সুশৃংখল বাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন মনে। এতে বাহিনীর বিপুল পরিমাণ মানহানি হয়েছে।

আইনজীবী সাজ্জাদুল করিম আরো জানান, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আগামী সাত কর্মদিবসে স্বাক্ষীদের জবানবন্দিসহ ঘটনার আদ্যপান্ত উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিতে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় সেদিন বাদির সাথে থাকা সিএনজি যাত্রি, সংশ্লিষ্ট সিএনজি চালক ও তল্লাশী চৌকিতে দায়িত্বরত বিজিবি নারী ও পুরুষ সদস্যদের স্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মামলার অভিযুক্ত এনজিওকর্মী ফারজানা আকতারের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন