২৪ অক্টোবর ২০২৬

আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা। মহররম মাসের ১০ তারিখ মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র একটি দিন। মানবজাতির ইতিহাসে সংঘটিত বহু স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী এই দিনটি। একদিকে এটি আল্লাহর কুদরত, সাহায্য ও সত্যের বিজয়ের স্মারক, অন্যদিকে ত্যাগ, ধৈর্য, ন্যায় ও আদর্শের পথে অবিচল থাকার অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

আশুরার ইতিহাসে মানবজাতির জন্য রয়েছে মুক্তি ও আত্মত্যাগের দুটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এদিন মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দেন। ফেরাউনের বাহিনী যখন তাদের ধাওয়া করছিল, তখন আল্লাহর নির্দেশে সাগরের বুকে পথ সৃষ্টি হয়। হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা নিরাপদে পার হয়ে যান, আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে নিমজ্জিত হয়। এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় হিসেবে হযরত মুসা (আ.) আশুরার দিনে রোজা পালন করতেন।

অন্যদিকে, ইসলামের ইতিহাসে আশুরা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম ইরাকের কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) অন্যায়, জুলুম ও অসত্যের কাছে মাথা নত না করে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের আত্মত্যাগ মানবসভ্যতার ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আদর্শ রক্ষার এক অবিনশ্বর দৃষ্টান্ত হিসেবে আজও সমুজ্জ্বল।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে কারবালার শোকাবহ স্মৃতি স্মরণে তাজিয়া মিছিল আয়োজন বহু বছরের ঐতিহ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীতে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, “পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।”

পবিত্র আশুরা শুধু শোকের দিন নয়; এটি সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং মানবতার কল্যাণে আত্মত্যাগের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করার এক অনন্য প্রেরণার দিন। এই দিনের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ