চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় লিলি আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিলি আক্তারের স্বামী মহিউদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারের বাড়ির সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এটি পরিকল্পিত হত্যা।
লিলি আক্তার বারশত ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ছেলে মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
লিলি একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ্ বাড়ি এলাকার মৃত কামাল উদ্দিন শাহ’র মেয়ে। ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয় বলে জানা যায়।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার বোনকে শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ মিলে নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের কারণে প্রায়ই লিলি বাবার বাড়িতে চলে আসতেন। কয়েকদিন আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। গতকাল রাতে মহিউদ্দিনসহ অন্যরা মিলে আমার বোনকে মারধর করে এবং আমাকে ফোন করে বলে, “তোমাদের বোনকে নিয়ে যাও, না হলে মেরে ফেলব।” আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিইনি। সকালে শাশুড়ি ও ননদ এসে জানায়, সে আত্মহত্যা করেছে।
স্বামী মো. মহিউদ্দিন বলেন, যৌথ পরিবারে বসবাস নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু সমস্যা চলছিল। এ কারণে তারা আলাদা বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন এবং সেদিনই সেখানে ওঠার কথা ছিল। এ নিয়ে আগের রাতে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে উপরের তলায় ঘুমাতে যান। সকালে নিচে এসে স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।












