২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমানত ফেরতের দাবিতে রাস্তায় গ্রাহকরা, প্রতিবাদে ফুঁসছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের কিছু গ্রাহকরা। নিজের কষ্টার্জিত আমানত ফেরত পাওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো গ্রাহক। ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তায় ফুঁসে উঠেছে বন্দরনগরী।

বুধবার (৬ মে) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা। ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন সংকট ও ‘হেয়ার কাট’ (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন গ্রাহকরা। ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড় এলাকায় জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা আলকরণ মোড়ে জিপিও’র বিপরীতে অবস্থান নেন।

এ সময় আমানতকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন ব্যাংকের চেক। গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকে ঘুরে ঘুরেও তারা নিজেদের জমা টাকা তুলতে পারছেন না। উল্টো তাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ বা ‘মবকারী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

একজন আমানতকারী বলেন, ‘আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই। অথচ আমাদেরই অপরাধী বানানো হচ্ছে।’

এর আগে খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকায় পাঁচটি ব্যাংকের অন্তত নয়টি শাখায় তালা দেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গ্রাহকদের দাবির আড়ালে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অরাজকতা সৃষ্টি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্মসূচির একপর্যায়ে আমানতকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। দাবিগুলো হলো— টাকা ফেরতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।

আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আজ আমরা পাঁচ হাজার, কাল পঞ্চাশ হাজার হব। আমাদের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘এলাকা ভিআইপি জোন হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

আরও পড়ুন