ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে দেশটির পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে চার বাংলাদেশিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইমিগ্রেশনের নির্ধারিত চেকপোস্টে প্রবেশসংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ইন্দোনেশিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।
আটক ব্যক্তিদের পুরো নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে নামের আদ্যক্ষর ‘টিএম’, ‘এসবি’, ‘এমবি’ ও ‘এনএ’ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার মামলাটি পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘বালি নিউজ’ এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাতে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের কুপাং রিজেন্সির পশ্চিম কুপাং জেলার ওমাতনুনু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রদেশটির আঞ্চলিক পুলিশের জল ও বিমান পুলিশ অধিদপ্তরের (দিতপোলাইরুদ) সদস্যরা ওই চার বাংলাদেশিকে আটক করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাদের কাছে টাকা, যোগাযোগের কোনো যন্ত্র কিংবা ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র নেই। তারা প্রত্যেকে আলাদাভাবে ভ্রমণ করেছে। এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো নিশ্চিত যোগসূত্রও পাওয়া যায়নি।
তবে তাদের ভ্রমণের ধরন এবং ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মামলা হস্তান্তরসংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন আইন ২০১১-এর ৮ নম্বর আইনের ১১৩ ধারার সঙ্গে ৯(১) ধারার আওতায় অভিযোগটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২০ সালের ১ নম্বর আইনের সংযোজনী-১-এর ৮৩ নম্বর দফার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফৌজদারি দণ্ড সমন্বয়সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান সারোহা মানুল্লাং মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের জল ও বিমান পুলিশ অধিদপ্তরের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশিদের চলাচল তদারকিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব নুসা তেঙ্গারার মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সারোহা বলেন, ‘পূর্ব নুসা তেঙ্গারার মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের অভিন্ন অঙ্গীকার। অংশীদার গ্রামগুলোর মাধ্যমে আমরা পিমপাসা কার্যক্রমও আরও জোরদার করছি। অভিবাসন তদারকির এই উদ্যোগে ২৯টি গ্রাম যুক্ত রয়েছে। আটক চার বিদেশির বিষয়ে আমরা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরবর্তী তদন্ত চালাব।’













