২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ-র‌্যাব পরিচয়ে এসএ পরিবহন থেকে পার্সেল নেওয়ার চেষ্টা, কনস্টেবল গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে এসএ পরিবহনের পার্সেল বুকিং কাউন্টার থেকে তিনটি কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কৃষাণ বড়ুয়া (২৭) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা-পুলিশ।

তিনি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আইসিটি শাখায় কর্মরত। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। এ ঘটনায় নোটন বড়ুয়া (২৭) নামে তাঁর এক সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নগরের কাজীর দেউড়িতে এসএ পরিবহনের বুকিং কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নম্বর ৬৬ দায়ের হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ও ৫১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া ও পলাতক নোটন বড়ুয়া মিলে এসএ পরিবহন থেকে তিনটি পার্সেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে রাতেই কনস্টেবল কৃষাণকে আটক করা হয়।’

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষাণ বড়ুয়া ও নোটন বড়ুয়া একটি মোটরসাইকেলে করে এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার বুকিং কাউন্টারের সামনে যান। তাঁদের মোটরসাইকেলে সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানিয়েছেন শাখাটির ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী।

এজাহারে বলা হয়েছে, কৃষাণের পরনে ইংরেজিতে ‘POLICE’ লেখা নেভি ব্লু রঙের একটি কটি ছিল। অন্যদিকে নোটনের পরনে ছিল র‌্যাবের লোগোযুক্ত কালো রঙের পোলো শার্ট। তাঁরা নিজেদের চাঁদগাঁও থানার ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে কাউন্টারে অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে দাবি করেন। সেগুলো জব্দ করে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি কাউন্টারের কর্মীদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন।

এসএ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘কাউন্টার থেকে আমাকে টেলিফোন করা হলে আমি ভিডিও কলে কথা বলি। তখন তাঁরা নিজেদের চাঁদগাঁও থানা-পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। কোতোয়ালী থানা-পুলিশ ছাড়া কেন তাঁরা এসেছেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথা বললে তাঁরা চলে যান।’

ব্যবস্থাপক আরও বলেন, ‘সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত স্টিকার লাগানো একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন লোক আমাদের কাউন্টারে এসেছিলেন। তাঁদের একজন পুলিশ লেখা হাফহাতা জ্যাকেট এবং অপরজন র‌্যাবের লোগোযুক্ত কালো রঙের টি-শার্ট পরা ছিলেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনটি কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আমাদের কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদেরও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়।’

এজাহার অনুযায়ী, তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে কাউন্টারের কর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কৃষাণ বড়ুয়া আবার কাউন্টারে এসে মালামাল নিয়ে যাওয়ার কথা বললে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষাণকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় তাঁর পরনে থাকা ‘POLICE’ লেখা নেভি ব্লু রঙের কটি জব্দ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে কৃষাণ নিজের পরিচয় ও পলাতক সহযোগীর পরিচয় প্রকাশ করেন। তাঁদের একজন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য এবং অন্যজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নোটন বড়ুয়ার সেনাসদস্য পরিচয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন