৪ মে ২০২৬

উখিয়ায় বিপুল পরিমাণ নিড়ানি উদ্ধারে ‘মুক্তি কক্সবাজার’র দূর্বিসন্ধি নিয়ে ধূম্রজাল

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজারের ভালুকিয়া সড়কে এক কামারের দোকান থেকে তৈরীধীন বেশকিছু লোহার যন্ত্র উদ্ধার করেছে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মুক্তি কক্সবাজার’র অর্থায়নে দেশীয় অস্ত্র হিসেবে রোহিঙ্গাদের সরবরাহ দিতে এসব লোহার যন্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল বলে প্রচার পাওয়ায় এ নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফখরুল ইসলাম এ অভিযান চালান।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম জানান, বিশেষ সূত্রে খবর আসে উপজেলার কোটবাজার ভালুকিয়া সড়কের অধীর দাশ নামে এক কামারের দোকানে বিশেষ ধরণের বিপুল পরিমাণ লোহার যন্ত্র তৈরি হচ্ছে। মুক্তি কক্সবাজারের অর্থায়নে তৈরি এসব যন্ত্র রোহিঙ্গাদের সরবরাহ দেয়া হবে বলেও প্রচার পায়। এটি জেনে শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সোমবার দুপুরে অভিযান চালানো হয়। দোকান থেকে নিড়ানি সদৃশ্য বেশ কিছু লোহার যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী লোকজন দোকানের চারপাশে জড়োহয়। মোবাইলে ছবি নিয়ে এসব দেশিয় অস্ত্র রোহিঙ্গাদের সরবরাহ দিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মুক্তি কক্সবাজার’ তৈরি করছে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হলে চারপাশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া এবং হ্নীলায় যুবলীগ সভাপতিকে রোহিঙ্গা কর্তৃক গুলি করে হত্যার পর থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলমান উদ্বিগ্নতায় এ দেশীয় অস্ত্রের তথ্য যেন ঘি ঢেলেছে। চারদিকে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সৃষ্টি হয় চরম ধূম্রজালের।

দোকানী অধীর দাশের মতে, ভালুকিয়া এলাকার সাইফুল নামে এক ব্যক্তি গত কোরবানির আগে ২ হাজার ৬শ’ পিস নিড়ানি তৈরির অর্ডার দেয়। প্রতি পিস ৪৫ টাকা দরে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় ১৬ আগস্ট মালামাল ডেলিভারির চুক্তি হয়। ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়া হলেও মালামাল বেশি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয়নি। সে কারণে তাড়াহুড়া করেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছিল।

কিন্তু এসব লোহার যন্ত্র তৈরির বিষয়ে কোন তথ্যই জানেন না বলে দাবি করেন মুক্তি কক্সবাজার’র পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিত দাশ। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২২ আগস্ট সম্পন্ন হওয়া নির্বাহি কমিটির বৈঠকেও এসব বিষয়ে মৌখিক ভাবেও জানানো হয়নি। তাই টেন্ডার বিষয়েও কিছু জানি না।

তবে, দেশি অস্ত্রের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ি পড়া তথ্য সম্পর্কে মুক্তি কক্সবাজার’র নির্বাহি পরিচালক (সিও) বিমল চন্দ্র দে সরকার বলেন, রোহিঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে মুক্তি কক্সবাজার। টেকনাফের হ্নীলায় চলমান প্রকল্পে হাজারো স্থানীয়কে কৃষি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার এদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে নিড়ানি সরবরাহও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটা দিতে সংস্থার টেন্ডার কমিটির মাধ্যমে টেন্ডার করিয়ে নিড়ানি গুলো তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে। এসব বিষয় টেকনাফ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অবগত আছেন। এটি রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যই।

তিনি আরো জানান, উখিয়ার এক ব্যক্তি টেন্ডারটি পেয়েছেন। মালামাল বুঝে পাওয়ার পর মূল পরিচালনা কমিটিকে বিষয়টি জানানো হয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন জানান, উদ্ধারকরা যন্ত্রগুলো কৃষিকাজে ব্যবহার যোগ্য নিড়ানি সদৃশ্য। যেহেতু যন্ত্রগুলো নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে তাই টেন্ডারের কাগজপত্র নিয়ে এনজিও সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে উপজেলা কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে তা ফের দয়া হবে অন্যতায় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ইউএনও।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন