২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘উৎসব সুপার মার্কেট’ কর্তৃপক্ষের জালিয়াতি, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় নকশাবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা ‘উৎসব সুপার মার্কেট’কে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর বিনিয়োগকৃত অর্থ আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ সালামের ভাগিনা ও আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী চক্র এ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ছাদেক আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সুপার শপ ও মার্কেটের মডেল প্ল্যান এবং অপারেশনাল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ‘উৎসব সুপার মার্কেট’ প্রতিষ্ঠার একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবটি গ্রহণ করে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের অপারেশনাল দায়িত্বের পাশাপাশি অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরল বিশ্বাসে তিনি ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, ওই বিনিয়োগের বিপরীতে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উৎসব সুপার মার্কেট’ উদ্বোধন করা হয়।

তবে উদ্বোধনের পরও তাঁকে মূল চুক্তিপত্রের কোনো কপি দেওয়া হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অডিট কিংবা আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাবও তাঁর কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ছাদেক আলীর দাবি, প্রথমদিকে তাঁকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই পরিমাণ কমিয়ে ২০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তিনি মূল চুক্তিপত্র ও প্রকৃত হিসাব-নিকাশ দাবি করলে বিবাদীদের আচরণ পরিবর্তিত হয় এবং তাঁকে নানাভাবে চাপ দেওয়া শুরু হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুচ সালামের ভাগিনা ও আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘ সময় তিনি প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলশীর মতো একটি আবাসিক এলাকায় প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদন ছাড়াই ‘উৎসব সুপার মার্কেট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং বিনিয়োগকৃত মূলধন ও প্রাপ্য লভ্যাংশ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. জহির তাঁর কাছে একটি হিসাব বিবরণী পাঠান। সেখানে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগের ১২ লাখ টাকার বিপরীতে তাঁর প্রাপ্য মাত্র ১০ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৮ টাকা উল্লেখ করা হয়। ছাদেক আলী এ হিসাবকে মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং ব্যবসায়িক নীতিবহির্ভূত বলে দাবি করেছেন।

বর্তমানে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশ ও বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকৃত অর্থ ও ন্যায্য লভ্যাংশ আদায়ের লক্ষ্যে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ