১৩ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে এবার ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন চলছে। এর মাঝে ১৫৪টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৭০টি ঘটপূজা। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি, এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বাপ্পি শর্মা।

পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতনীদের প্রাণের এ উৎসব। অতীতের মতো এবারেও কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিসর্জন উপলক্ষ্যে সম্প্রীতির মিলনমেলা হবে। এ উপলক্ষ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ এ বিসর্জন অনুষ্ঠান সুচারু রূপে সম্পন্নে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত সংস্থার লোকজনও মাঠে কাজ করছে, এমনটি দাবি পরিষদ নেতৃবৃন্দের।

নেতৃবৃন্দের মতে, জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ চকরিয়া উপজেলায়। সেখানে ৭১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালী উপজেলায় ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়া ও উখিয়ায় নয়টি করে, মহেশখালী পৌরসভায় ছয়টি এবং টেকনাফে ছয়টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্ব স্ব মণ্ডপ কমিটি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বাপ্পি শর্মা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো কাজ করছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ বলেন, দূর্গাপূজায় ছুটি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘ দিনের। বর্তমান সরকার সেই দাবির প্রতিফলন ঘটিয়েছে এবার। পূজার তিনদিনের ছুটির পাশাপাশি সপ্তাহিক মিলে পাঁচ দিনের ছুটি মিলেছে পেশাজীবীদের। এবার মণ্ডপওয়ারি সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি স্বনির্বন্ধ কৃতজ্ঞ। পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে এবারের দুর্গোৎসবও সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা রাখছি।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দোলন ধর জানান, দুর্গোৎসব সফল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে একাধিক সভা হয়েছে। সবার সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, সনাতনীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে শৃংখলাবাহিনীর নানা শাখার সদস্যরা, ট্রাফিক ও ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া রয়েছে।

আরও পড়ুন