৭ নভেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারে ‘নারায়ণগঞ্জ ফেরত’ ব্যক্তির করোনা ‘পজিটিভ’

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা ‘নারায়ণগঞ্জ ফেরত’ এক ব্যক্তির করোনা ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট মিলেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) পরীক্ষা করা ৬৪ স্যাম্পলে ৬৩ জনের ফলাফল নেগেটিভ এলেও কক্সবাজার পৌরসভার টেকপাড়া এলাকার আবুল কালাম নামের ব্যক্তির করোনা পজেটিভ এসেছে।

এর আগে গত ১৯ তারিখ এক দিনেই চার করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। তারাও নারায়ণগঞ্জ ফেরত ছিলেন। ফলে নারায়ণগঞ্জকে দেশের সবচেয়ে করোনা প্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

দেশে করোনা প্রভাবের পর থেকে কক্সবাজার জেলায় এ নিয়ে ৬ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এদের একজন ওমরাহ ফেরত, বাকি পাঁচজনই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। করোনা পজেটিভের মাঝে প্রথম সনাক্ত নারীর বাড়ি চকরিয়া, পরেরজন নাইক্যংছড়ির ঘুমধুম, চার জনের তিনজন মহেশখালী ও বাকিজন টেকনাফ। সর্বশেষ জনের বাসা শহরের টেকপাড়ায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ল্যাব চালু হওয়ার ২২ দিনে ৫৬১ জন সন্দেহজনক রোগীর করোনা টেস্ট হয়েছে। যাদের মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গেল।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান নাজির এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে বুধবারও (২২ এপ্রিল) ৬৪ সন্দেহজনক রোগীর করোনাভাইরাসের নমুনা টেষ্ট করা হয়। এদের মধ্যে কক্সবাজার শহরের এক বাসিন্দার করোনা পজেটিভ এসেছে। বাকিসব রিপোর্টই নেগেটিভ।

তিনি আরো জানান, পার্বত্য নাইক্যংছড়ির আবু ছিদ্দিক নামে তাবলীগ ফেরত বৃদ্ধের করোনা পজেটিভ আসার পর বুধবার একই উপজেলার আরো এক আবু ছিদ্দিকের স্যাম্পলে করোনা নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু প্রচার করা হয় সেই তাবলীগ ফেরত সেই বৃদ্ধের দ্বিতীয় স্যাম্পলে করোনা নেগেটিভ এসেছে। এ প্রচারণাটি মিথ্যা। বুধবারের ফলাফলে ছিদ্দিক অন্য রোগী। আগের তাবলীগ ফেরত ছিদ্দিকের দ্বিতীয় স্যাম্পল এখনো পরীক্ষার জন আনা হয়নি।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজার ল্যাবে প্রতিদিন ৯৬ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও উপজেলা পর্যায় থেকে প্রথমে নমুনা কমই এসছে। এখন মোটামুটি ভালোই নমুনা আসছে পরীক্ষার জন্য। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ জেলার আশপাশ এলাকা থেকে ৬৪ জনের নমুনা ল্যাবে আসে। বুধবার সব পরীক্ষার পর ৬৩ জন নেগেটিভ এলেও বাকি একজনের করোনা পগেটিভ এসেছে। সকল পরীক্ষার নমুনার প্রতিবেদন ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকেই আনুষ্ঠঠানিক ভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, রোগীর অবস্থান বিবরণে কক্সবাজারের বাইরে কোথাও না যাওয়ার কথা লিখা হলেও তিনি ২০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে কক্সবাজার শহরে ফিরেছেন। তাই করোনা সনাক্ত হওয়া ব্যাক্তির বাসা ও আশপাশ লকডাউন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাকে আইসোলেশনে নেয়ার পাশাপাশি তার সংস্পর্শে আশা ব্যাক্তিদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করেছে। গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়েছে। এরপর প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন ও ১৬ এপ্রিল ৪১ জন, ১৭ এপ্রিল ৩৯ জন, ১৮ এপ্রিল ১৩ জন, ১৯ এপ্রিল ৬৩ জন, ২০ এপ্রিল ৫১ জন, ২১ এপ্রিল ৪০ জন ও ২২ এপ্রিল ৬৪ জন সন্দেহজনক রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫৬১ জন। এদের মাঝে ৬ জনের শরীওে করোনা পজেটিভ এসেছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন