২৪ অক্টোবর ২০২৬

কবরস্থানও পানির নিচে, ভেলায় করে লাশ নিয়ে দূরে দাফন

চারদিকে শুধু পানি আর পানি। বসতভিটা, উঠান, কবরস্থান— সবই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। এমন পরিস্থিতিতে প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতেও পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। ভেলায় করে প্রায় ৩০০ মিটার পানি পাড়ি দিয়ে শুকনা জায়গায় নেওয়া হয় এক ব্যক্তির মরদেহ। পরে অটোরিকশায় প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে সম্পন্ন করা হয় দাফন।

হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে। মারা যাওয়া ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান (৬০), পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। গত শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি মারা যান। রাত ১০টার দিকে উপজেলার দস্তিদারহাট সংলগ্ন ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় জানাজা শেষে সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন ফোরকান। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। কিন্তু বাড়ির উঠান থেকে পারিবারিক কবরস্থান— সবই কোমরসমান পানিতে তলিয়ে থাকায় ঘরে মরদেহের গোসল করানো কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি।

বাধ্য হয়ে স্বজনরা প্রথমে মরদেহটি ভেলায় তুলে প্রায় ৩০০ মিটার দূরের শুকনা স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দস্তিদারহাটে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল ও দাফনের প্রস্তুতি শেষে ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ফোরকানের বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, “বাড়ির পাশেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। বাবা সব সময় বলতেন, দাদা-দাদির পাশেই যেন তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে বাবার সেই শেষ ইচ্ছাটুকুও পূরণ করতে পারিনি।”

জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিতে ডুবে রয়েছে। বসতবাড়ি, কবরস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্লাবিত থাকায় মরদেহটি ভেলায় করে নিরাপদ স্থানে নিতে হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মাছ ধরতে গিয়ে ফোরকান স্ট্রোক করেন এবং পরে বাড়িতে মারা যান। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মরদেহ দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা যেত।

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন প্রায় চার লাখ মানুষ।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সাঙ্গু নদীর সাতকানিয়া অংশে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে উঁচু জোয়ার ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দ্রুত পানি না কমার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ