কাপ্তাই লেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেছেন, কাপ্তাই লেকের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব নিয়ে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘কাপ্তাই লেক শুধু একটি জলাধার নয়; এটি দেশের সম্পদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে এই লেক গভীরভাবে সম্পৃক্ত।’
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গ্রেটার চট্টগ্রাম ফোরাম ও চট্টগ্রাম ওয়াসা গ্রাহক সমন্বয় ফোরাম আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাপ্তাই লেকের পানি নিয়ে কথিত ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
নাজিমুর রহমান বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আমলারা নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কাপ্তাই লেককে ঘিরে কোনো মহল দেশের স্বার্থবিরোধী পরিকল্পনা করে থাকলে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জাতীয় সম্পদ নিয়ে কোনো গোপন সিদ্ধান্ত, অপপ্রচার কিংবা ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পানির লেভেল অতিক্রম করার আগেই পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে কি না, তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
নাজিমুর রহমান বলেন, কাপ্তাই লেকের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। লেককে ঘিরে যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কাপ্তাই লেক হোক দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনার উৎস। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থে জাতীয় সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বীর চট্টলার আপামর জনসাধারণ প্রস্তুত।’
গ্রেটার চট্টগ্রাম ফোরামের মহাসচিব হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা ও মঞ্জুর রহমান চৌধুরী।
জহিরুল ইসলাম ও সাজ্জাদ খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, এমরান এমি, আরিফ হাসান, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, কিরণ শর্মা, ইসমাইল ইমন, আবু বক্কর রাজু, কামাল পারভেজ, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী রাশেদ আলম, প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হাছান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মিনহাজুল হক ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।













