৩০ অক্টোবর ২০২৬

ডিসির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর: পুলিশের সোর্স সোহেল আটক

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে পুলিশের একজন উপকমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। 

শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। সিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটক সোহেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

এর আগে একই ঘটনায় খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করা হয়। সেখানে পোশাকধারী তিন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সোর্স হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবি পরা সোহেল।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের হাতে থাকা পাইপের পাশাপাশি সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন সোহেলের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যান। সোহেল নগরের গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

নাঈমের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয়রা সোহেলকে থানায় নিয়ে গেলেও খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে নিজের পাশে বসিয়ে রাখেন। অন্যদিকে গভীর রাতে থানায় যাওয়া নাঈমের বাবাকে ওসির কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রায় ১৫ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করিয়ে পরে তাকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসতে বলা হয়।

এ ঘটনায় নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। অপর দুই আসামি হলেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল।

ঘটনার পর জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে নজর সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন