তারেক মাহমুদ »
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ইতোমধ্যেই ধসে পড়েছে চট্টগ্রামের পোল্ট্রি শিল্প। এছাড়াও প্রতিদিন ডিমে ক্ষতি হচ্ছে ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও গত দেড় মাসে মুরগিতে ক্ষতি হয়েছে ৩৭ কোটি টাকা। এমতাবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন জেলার প্রান্তিক খামারি সহ এই শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রাম মিলে জেলায় ৪ হাজার ৪৮টি ব্রয়লার পোলট্রি খামার ও ৪০৬টি লেয়ার পোলট্রি খামার রয়েছে। এসব খামারে (লেয়ার) গড়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার করে ২০ লাখ ৩০ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। আর প্রতিটি ব্রয়লার মুরগি খামারে গত দেড় মাসে গড়ে তিন হাজার কেজি করে এক কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার কেজি গোশতের মুরগি উৎপাদিত হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি কোজি ব্রয়লার গোশত বিক্রি করে গড়ে ৩০ টাকা করে লোকসান দিয়ে ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর প্রতি পিস ডিম গড়ে ২ টাকা লোকসান দিয়ে বিক্রি করে প্রতিদিন ক্ষতি গুণতে হচ্ছে ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
বাঁশখালী লেয়ার ও ব্রয়লার পোলট্রি খামারি ফখরুদ্দিন জানান, করোনার প্রভাবে মুরগির খাবার, ওষুধ, বাচ্চা কেনা খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কেজি মুরগিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের আরেক ব্রয়লার ও লেয়ার পোলট্রি খামারি জানান, উৎপাদিত প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ৪০ টাকার ও প্রতিটি ডিমে তিন টাকার উপরে লোকসান দিয়ে বিক্রি করে এখন তারা আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, প্রতিটি লেয়ার খামারে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার করে ডিম উৎপন্ন হয়ে আসছে। করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা আর প্রতি পিস উৎপাদিত ডিমে ২ টাকা করে লোকসান দিয়ে বিক্রি হচ্ছে বলেও তিনি যোগ করেন।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম













