২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘরে ঘরে ‘বিপ্লব’র ঈদ উপহার

বাংলাধারা প্রতিবেদক »

মিরসরাই করোনা কালীন দাফন কাফনের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংগঠন ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’। ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে গত প্রায় তিন বছরে ফ্রি করোনায় মৃত, অজ্ঞাত লাশ দাফন কাফন, অক্সিজেন, এ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে যাচ্ছে এ সংগঠন। মিরসরাই উপজেলা থেকে সংগঠনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ফেনী, রামগড়, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মৃত ব্যক্তির গোসল দাফন কাফন ফ্রি সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, সংগঠনের শুরু থেকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা গ্রামের সন্তান আন্তর্জাতিক কোল এনার্জি কোম্পানি জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মেহেদী হাসান বিপ্লব।

নিজের সততা, নিষ্ঠা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ তারুণ্যের আইকন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এ উদীয়মান উদ্যোক্তা। সমাজের অসহায় পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে তিনি ভাবনার চেয়েও বড় উদার, নিরহংকার বিষ্ময়কর একজন দরদি মানুষ হিসেবে পরিচিত।  ৭ জুলাই মিরসরাই শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠনের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন এই তরুণ। এসময় তিনি ফ্রি মৃত ব্যক্তির গোসলের ব্যবস্থা , অক্সিজেন সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি এ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আজীবন মানুষের সেবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, মানুষ শেষ বিদায়ের জন্য দাফনের ক্পড়সহ মাত্র ১৩শ ৫০টাকার প্রয়োজন। এ উপলব্ধি আসলে কোন মানুষ কারো হক নষ্ট করবে না। সৎভাবে জীবন যাপন করে হালাল আয়ের মাধ্যমে প্রভুর সন্তুষ্টি লাভ করবে। সমাজে ধনী গরিব বৈষম্য থাকবে না।

তিনি মৃত ব্যক্তির (পুরুষ /মহিলা) দাফনের সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা নগদ দান করেন। দাফন কাফনের সাথে জড়িত পুরুষ ও মহিলাদের ঈদ উপহার প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মোঃ রায়হান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক নুরুল আলম, সমন্বয়ক (সেবা) আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।

মেহেদী হাসান বিপ্লব তার নাড়ির টানে নিজের বেড়ে উঠার জন্মস্থান হওয়ায় ফটিকছড়ি ও খাগড়াছড়ির গরিব দুঃখী মানুষের পাশে নিজেকে যেভাবে জড়িয়ে রাখেন তেমনি নিজের এলাকার বাইরে রাজধানী সহ দেশজুড়ে নিরবে সমাজসেবা করে যাচ্ছেন।

এলাকার মানুষের থাকার ঘর করে দেওয়া, শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, অসুস্থদের চিকিৎসা খরচ, গরিব শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার দায়িত্ব, করোনাকালীন ত্রান সামগ্রী বিতরণ, বৃদ্ধদের নগদ অর্থ সহায়তা, নিজ খরচে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ, মসজিদ, মাদ্রসায় উন্নয়ন কাজে অনুদান দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি এখন ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে হেঁয়াকো, দাঁতমারা, বালুটিলা, খাগড়াছড়ি, রামগড়, মিরসরাই, ফেনী, ছাগলনাইয়া অঞ্চলের মানুষের দুঃখদুর্দশা দেখে খোঁজ নিয়ে হেঁটে হেঁটে গত দুইদিন ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।

দেশজুড়ে তার সেবার সীমানা বিস্তৃত। যেখানে মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনা যায় সেখানে তিনি ছুটে যান। এতো কাজ করেও স্যোশাল মিডিয়ার যুগে একেবারেই ব্যাতিক্রম প্রচার বিমূখ মানুষ মেহেদী হাসান বিপ্লব। এরকম মানুষ সমাজে সংখ্যায় একেবারেই নগন্য। এসব মানবিক মানুষগুলো নিজের সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে বেড়ান।

দেশের সফল উদীয়মান উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন তরুণ্যের আইকন মেহেদী হাসান বিপ্লব। প্রতি মাসে তিনি তার ব্যবসা থেকে যে টাকা আয় করেন, সিংহভাগ ব্যয় করেন মানবসেবায়। এটাতেই তিনি খুঁজে পান মানসিক সুখ-শান্তি। ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে তার খ্যাতি দেশজুড়ে।

তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে ব্যক্তিগত অর্থায়নে বানবাসি মানুষকে খাদ্য, চিকিৎসা, ঘর সহায়তা দিয়েছেন। তাদের জন্য কোরবানির প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে।

এতো অল্প সময়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠার গল্প শুনতে চাইলে মেহেদী হাসান বিপ্লব বলেন, “জীবনকে বদলানোর জন্যে কেবল একজনকেই প্রয়োজন, আর সেটা হলো স্বয়ং নিজের ইচ্ছাশক্তি। আমি দিনরাত ১৮ঘন্টা এখনো পরিশ্রম করি। আমি আয়ের বড় একটি অংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষদের মাঝে দান করে আসছি। করোনাকালেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় খাদ্যসামগ্রী ও অক্সিজেন সিলেন্ডার, কাফনের কাপড় বিতরণ করেছি।

মেহেদী হাসান বিপ্লব আরো বলেন, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের উপর তার প্রতিবেশি গরিব অসহায় মানুষের হক রয়েছে। আমরা সবাই সে দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করলে সমাজে গরিবেরা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে একে অপরকে সহায়তা করতে পারতো। এভাবে একদিন ধীরে ধীরে দারিদ্র্য মুক্ত, বাল্য বিবাহ মুক্ত, নিরক্ষর মুক্ত, মাদকমুক্ত, অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়ে উঠতো।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ