২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে কোরবানির পশু কম, দাম বাড়ার শঙ্কা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার পশু কম উৎপাদিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু সরবরাহ হওয়ায় কোরবানিতে বড় ধরনের সংকট হবে না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় খামারিরা পশু হৃষ্টপুষ্টকরণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে খরচ সামাল দিতে না পেরে জেলায় প্রায় ৩০০টি খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল প্রস্তুত করা তালিকায় দেখা যায়— এ বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলাগুলোতে স্থানীয়ভাবে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ এক বছরে উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বড় ধরনের হ্রাস।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি এবং ২০২২ সালে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি। সে হিসাবে চলতি বছরের উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

পশুভিত্তিক হিসাবেও উৎপাদন কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এ বছর গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। বিশেষ করে গরু ও ছাগলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবে, এ বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। সেই হিসাবে স্থানীয় উৎপাদনের তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি পশুর ঘাটতি রয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক চাপের কারণে বড় পশুর পরিবর্তে ছোট পশুর প্রতি ঝোঁক বাড়ায় সামগ্রিক চাহিদা কিছুটা কমেছে।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল— রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী ও পার্বত্য জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামে আসবে। এতে স্থানীয় ঘাটতি পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সরবরাহও থাকতে পারে, ফলে বাজার স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় গোখাদ্যের দাম অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, ‘গোখাদ্যের দাম গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু এ খাতে কোনো কার্যকর মনিটরিং নেই। এতে উৎপাদকরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন