চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে মাঠে নামছে ৬টি কমিটি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (৪ মে) টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রকৌশলী, পরিচ্ছন্ন বিভাগ, তদারকি কর্মকর্তা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, নগরের গুরুত্বপূর্ণ খাল ও জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে জামাল খান খাল ও হিজড়া খাল, রামপুর খাল, গুলজার খাল, মনোহরদী খাল এবং চান্দগাঁও-মুরাদপুর এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে প্রকৌশলী, আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান। পাশাপাশি ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকৌশলগত বিষয়ে পরামর্শ দেবেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে আর কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় খাল বা ড্রেন বন্ধ রয়েছে, কোথায় পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে— এসব দ্রুত চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে চাক্তাই-মুরাদপুর, রামপুরা খাল, আজম পাহাড় খাল, গাউছিয়া রোড, রুপসা বেকারি এলাকা, গুলজার খাল ও মাদারবাড়ী এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন। মেয়র জানান, অনেক স্থানে খাল ও ড্রেনে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
রামপুরা ও আজববাহার খাল এলাকার দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “আমি নিজে দেখেছি মানুষ কত কষ্টে আছে। বর্ষার আগে অন্তত অস্থায়ীভাবে হলেও চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।”
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতেও নির্দেশনা দেন তিনি। নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে সেবকদের উপস্থিতি ও কাজ সরাসরি তদারকি করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ৩ হাজার রেইনকোট সরবরাহ এবং প্রয়োজনে নতুন কর্মী নিয়োগের কথাও জানান তিনি। নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন মেয়র।













