২৯ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ

বাংলাধারা  প্রতিবেদন»

প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা এখন নিত্যসঙ্গী চট্টগ্রাম নগরবাসীর।

তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকালের টানা বৃষ্টির কারণে হাটু থেকে কোমর পানি পর্যন্ত ডুবেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ নিচু এলাকা। পানিতে ডুবছে স্বয়ং মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়িও। 

জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী লোকজন। পানিতে আটকে থাকতে হয় শত শত যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাড়তি টাকায় গন্তব্যে যেতে হয় সড়কে বের হওয়া লোকজনকে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমদ বাংলাধারাকে বলেন, ‘পতেঙ্গা অংশে বৃষ্টি কম হয়েছে তবে নগরীর মূল অংশে বৃষ্টি বেশি হয়েছে। সেই হিসাবে চট্টগ্রাম নগরে মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই ধারা আগামী দুই দিন অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো সতর্কসংকেত নেই।’

জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক চাকরিজীবী বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই মনে ভয় ধরে, কিভাবে অফিসে যাবো। এই শহরের যারা নীতিনির্ধারক আছেন তারা কখনোই মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেন না। যদি করতেন, তাহলে প্রতিবছর এই অসহ্য দুর্ভোগ সহ্য করতে হতো না।

এদিকে জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন কর্মজীবী নারীরা। সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় হাঁটুপানি মাড়িয়ে যেতে হয় কর্মস্থলে।  

দুর্ভোগের কথা জানিয়ে এক গার্মেন্ট কর্মী বলেন, কারখানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে আটকে গেছি। যে পরিমাণ পানি, কোনোভাবেই চলাফেরা করা যাচ্ছে না। রিকশা ভাড়াও বেশি নিয়েছে। সড়কে সকালে ছিল না পর্যাপ্ত বাসও।  

গতকাল মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট, ষোলকবহর, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, প্রবর্ত্তক মোড়, চকবাজার, কাপাসগোলা, ডিসি রোড, ষোলশহর, জামালখান, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথায় হাঁটু, কোথাও কোমরপানি জমেছে। এ কারণে সকালে ভোগান্তিতে পড়তে হয় অফিসগামী মানুষের।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন