আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে কিংবা দলের সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যেই নগর ও জেলার নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কেন্দ্রের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। যদিও এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই, তবুও প্রতিটি এলাকায় দলের পক্ষ থেকে একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে অনানুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়া হবে। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের সেই প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে হবে।
দলীয় সূত্র বলছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একই এলাকায় বিএনপির একাধিক নেতা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং দলীয় কোন্দলও বেড়েছে। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বড় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলের প্রতি ত্যাগ, অবদান এবং এলাকায় জনপ্রিয়তা বিবেচনায় সমর্থন দেওয়া হবে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দল যাকে সমর্থন দেবে, সবাইকে তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা বিদ্রোহী প্রার্থিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে সবসময় কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
দলীয় একাধিক নেতা জানান, কেন্দ্র বা স্থানীয় সমন্বয় কমিটি যাকে সমর্থন দেবে, অন্য সবাইকে তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে আজীবন বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
চট্টগ্রামের অপর এক দায়িত্বশীল বিএনপি নেতা নাম বলেন, “চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় ঐক্য অক্ষুন্ন রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দল যাকে সমর্থন দেবে, সবাইকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের বিভক্তি বা বিদ্রোহ মেনে নেওয়া হবে না।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি এখন মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে হাইকমান্ড।
এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলে কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু মেয়র পদে দলের সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। বর্তমান প্রশাসকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ প্রার্থী হতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে না। তাই অনেকেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে পারেন। বড় দল হিসেবে বিএনপিতে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকাই স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
চট্টগ্রামে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির এই কঠোর অবস্থান দলীয় কোন্দল কমিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনার বিষয়।














