আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও বিপণন কার্যক্রম সচল রাখতে ট্যানারি মালিকদের জন্য ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৫ মে) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২৬ সালের জন্য কাঁচা চামড়া ক্রয়ে ঋণ বিতরণের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে দেশের ব্যাংকগুলোকে। এ লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই ২০২৫ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রাখা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ট্যানারি মালিকদের ঋণের সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সহজ করতে বেশ কিছু শিথিলতাও দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আগের ঋণ বকেয়া থাকলেও নতুন করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা। যেসব ব্যবসায়ীর ঋণ পুনঃতফসিল করা রয়েছে, তারা নতুন ঋণ নিতে চাইলে আগের বকেয়ার একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করলেও তারা নতুন ঋণ পেতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত তথ্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ট্যানারি মালিকদের জন্য ব্যাংকগুলো ২৩২ কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ দিলেও দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৯টি ব্যাংক এ ঋণ বিতরণে অংশ নেয়। ফলে চামড়া সংগ্রহে অর্থসংকট দেখা দেয় এবং বাজারে এর প্রভাব পড়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চামড়া শিল্প দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত, যার বড় অংশের কাঁচামাল আসে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। তাই এ সময় ব্যবসায়ীদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়।














