বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে সাতকানিয়া থেকে। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাতকানিয়া উপজেলা থেকে ৩ হাজার ৮৯১ জন কর্মী চাকরির ভিসায় বিদেশে গেছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত আরও ১ হাজার ৩৪১ জন বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও বহির্গমন ছাড়পত্র কার্যক্রমে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত কর্মসংস্থান ও জনশক্তি ব্যুরো কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা তরুণরা বিদেশে কাজের স্বপ্ন নিয়ে সেবা নিচ্ছেন।
২০২৫ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে সাতকানিয়ার পর ফটিকছড়ি থেকে ৩ হাজার ৫৯৪ জন, রাঙ্গুনিয়া থেকে ৩ হাজার ২০৫ জন, মীরসরাই থেকে ২ হাজার ৬০৮ জন এবং হাটহাজারী থেকে ২ হাজার ৪০৯ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।
বিদেশগামী কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস। প্রশিক্ষণে বিদেশে কর্মপরিবেশ, আইন-কানুন, বৈধ ভিসা, নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তা বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবগামী প্রশিক্ষণার্থী আজিজুল হাকিম বলেন, ‘প্রথমবার বিদেশ যাচ্ছি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পেরেছি। বিদেশে যাওয়ার আগে এ ধরনের প্রশিক্ষণ সবার নেওয়া উচিত।’
প্রশিক্ষণ নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, এখনো অনেক মানুষ তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ বা ‘আজাদ ভিসা’র ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন। বৈধ কর্মচুক্তি ছাড়া বিদেশে গিয়ে অনেকেই নির্যাতন ও মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
জনশক্তি জরিপ কর্মকর্তা গৌরী রাণী চক্রবর্তী বলেন, ‘অনেক কর্মী প্রয়োজনীয় তথ্য না জেনেই বিদেশে যান। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা তাদের সচেতন করার চেষ্টা করি।’
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের প্রধান মহেন্দ্র চাকমা বলেন, ‘চট্টগ্রাম অফিস থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুরসহ সাতটি দেশের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া ইউরোপ, জাপান ও কোরিয়াতেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠানো হচ্ছে।’
তিনি জানান, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৬৮ হাজার ১৫৪ জন নিবন্ধন করলেও বিদেশ গেছেন ৪১ হাজার ৮২৯ জন। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৩১ হাজার ৪৬৯ জন, আর বিদেশ গেছেন ৯ হাজার ১৯৩ জন।
মহেন্দ্র চাকমা আরও বলেন, ‘প্রবাসীরা দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তাদের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। দক্ষতা ও বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বিদেশ গেলে প্রতারণার ঝুঁকি কমে এবং আয়ও বাড়ে।’













