চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে ডাকাতির সময় এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টা এবং ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাঁর যৌনাঙ্গে টসলাইলের পেছনের অংশ ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা মো. শাহীন ও তাঁর বাবা ছামসু মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জোরারগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার ২ নম্বর হিংগুলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম আজমনগরের উত্তর গ্রামে তাঁর বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ডাকাতি করে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টাকার মালামাল লুট করে।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, ডাকাতির একপর্যায়ে তাঁকে সন্তানদের কাছ থেকে আলাদা করে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তিনি ঋতুস্রাবের কথা জানিয়ে ধর্ষণ না করার জন্য অনুরোধ করলেও অভিযুক্তদের একজন তাঁর যৌনাঙ্গে টসলাইলের পেছনের অংশ ঢুকিয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পরদিন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি এবং তাঁকে দীর্ঘ সময় থানায় বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তিনি জানান, পরে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর কাছে বিস্তারিত জানানোর পর এমপি তাঁকে পুনরায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। একই সঙ্গে বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী ও হিংগুলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহাগকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন বলে জানান ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা তাঁর প্রতিবেশী। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও ডাকাতি ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক কারণে অনেকে বিষয়গুলো প্রকাশ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার এজাহারে ওই নারী উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় নির্যাতনকারীর মুখে কালো মুখোশ ছিল। তবে তাঁর পরনের পোশাক, হাতের ঘড়ি, শারীরিক গঠন ও মাথার চুল দেখে তিনি যুবদল নেতা শাহীনকে শনাক্ত করেন। তাঁর দাবি, শাহীন আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় মুখোশ পরা অবস্থাতেও তাঁকে চিনতে পারেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর প্রায় ২০ দিন মামলা না হওয়ায় বিষয়টি চট্টগ্রাম সার্কেলের পুলিশ সুপার মাসুদ কামালের নজরে আসে। তাঁর হস্তক্ষেপের পর বৃহস্পতিবার জোরারগঞ্জ থানায় শাহীন (৩৫), তাঁর বাবা ও হিংগুলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছামসু মিয়া (৬০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
তবে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে প্রতিবেশী ছামসু মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটতে পারে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর ওই নারী থানায় আসেননি; প্রায় ১৫ দিন পর এমপি নুরুল আমিনের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান। এমপি তাঁকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করে।
বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিষয়টি এমপি নুরুল আমিন জানেন বলে তিনি জানান।
এমপি নুরুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী নারী তাঁর কাছে আসার পর তিনি তাঁকে জোরারগঞ্জ থানায় পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিংগুলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহীন। তিনি বলেন, মামলা হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সামনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই নারীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ রয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
মামলার পর অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করছে পুলিশ।












