২৯ অক্টোবর ২০২৬

এজাহারে নাম নেই তবু ইনকুয়েরি শিট

ডায়মন্ড সিমেন্টের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীর নামে ইএস— পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন!

কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা দলীয় পদ-পদবি না থাকার দাবি করা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দুই ব্যক্তির নামে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানার একাধিক মামলার সূত্রে অনুসন্ধান-সংক্রান্ত নথি (ইনকুয়েরি শিট বা ইএস) পাঠানো হয়েছে কর্ণফুলী থানায়। তাঁদের একজন ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আজিম আলী প্রকাশ আজম আলী (৫৫)। অপরজন কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমেদের ছেলে তরুণ ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম (৩০)।

সংশ্লিষ্ট নথি ও মামলার এজাহার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজম আলীর নামে দুটি মামলার সূত্রে ইএস পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আমিনুল ইসলামের নামে পাঠানো দুটি ইএস’র মধ্যে একটির সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারে তার নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কীসের ভিত্তিতে তাদের নামে এসব অনুসন্ধান নথি পাঠানো হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশের অনুসরণ করা প্রক্রিয়া কী ছিল।

কর্ণফুলী থানার সাবেক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও (ওসি) সংশ্লিষ্ট নথি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একটি মামলার এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও আমিনুল ইসলামের নামে ইএস পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা উঠে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজম আলী একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। আমিনুল ইসলামের পরিবারেরও দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এ অবস্থায় তাদের নামে একাধিক মামলার সূত্রে অনুসন্ধান নথি পাঠানোর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি করেছে।

আজম আলীর নামে দুটি মামলার সূত্রে ইএস
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে কোতোয়ালী থানা থেকে আজম আলীর নামে দুটি মামলার সূত্রে ইএস পাঠানো হয়। তবে নথিতে উল্লেখিত মামলাগুলো ২০২৪ সালের।

প্রথম মামলার ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা, পুরাতন ব্রিজঘাট, আজিমপাড়া। কোতোয়ালী থানার এফআইআর নম্বর ১৮, তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৪ এবং জিআর নম্বর ৪২৮। মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/১০৯/৫০৬/৩৪ ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে আজম আলীকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অপর মামলার নথিতে তার ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে হাকিম ভিলা, রোড নম্বর ৩, হাউস নম্বর ৬, ব্লক নম্বর কে, হালিশহর হাউজিং সোসাইটি, চট্টগ্রাম। পাশাপাশি বর্তমান ঠিকানা হিসেবে রয়েছে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা।

এ মামলার এফআইআর নম্বর ২১, তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৪। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারা উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের পিসিপিআর অনুযায়ী, এ মামলাতেও আজম আলীকে এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মামলা দুটি রেকর্ডের সময় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন মুহাম্মদ ফজলুল কাদের চৌধুরী।

‘সমাজসেবক, রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন’
কর্ণফুলীর খোয়াজনগর ও আজিমপাড়া এলাকার আবু তাহের, মোহাম্মদ সালামসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আজম আলী একজন সমাজসেবক। এলাকায় স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে সমাজসেবায় একুশে স্মারক সম্মাননা পদকও পেয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের জানা মতে, আজম আলী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন এবং তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবিও নেই। একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকের নামে পরপর দুটি মামলার সূত্রে অনুসন্ধান নথি পাঠানোর বিষয়টি তাদের কাছে দুঃখজনক।

তবে স্থানীয়দের এ বক্তব্যের বাইরে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ ও সেগুলোতে আজম আলীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আমিনুলের নামে দুটি ইএস, একটি মামলার এজাহারে নেই নাম
কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমেদের ছেলে তরুণ ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলামের নামেও কোতোয়ালী থানার দুটি মামলার সূত্রে ইএস পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই তাঁর নামে একটি ইএস পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট মামলার এফআইআর নম্বর ২৭, তারিখ ১৫ মে ২০২৬ এবং জিআর নম্বর ২৬৯। এতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩/১৪ ধারা উল্লেখ রয়েছে।

মামলাটি রেকর্ড করেন কোতোয়ালী থানার তৎকালীন ওসি মো. আফতাব হোসেন। ইএস পাঠান থানার এসআই মো. আল আমিন।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করে ২১ জনকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের তালিকায় আমিনুল ইসলামকে ২১ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা উপলক্ষে কোতোয়ালী থানাধীন জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন মামলার বাদী এসআই শরীফ উদ্দিন ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, জানাজা শেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং জনসাধারণের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমবেত হন। তাঁরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মসজিদের সামনের সড়কে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য ধাওয়া করলে কয়েকজন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আকারের ইটের ১৫টি ভাঙা টুকরা ও আটটি কাঠের লাঠি উদ্ধারের পাশাপাশি মহিউদ্দিন প্রকাশ মহিউদ্দিন (৩৯), সুমন ও মুসাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে ওই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করলেও ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি ছিল না বলে প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এজাহারে নাম নেই, তবু পাঠানো হয় ইএস

আমিনুল ইসলামের নামে পাঠানো অপর ইএসটি আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ মে ১২২৮/২৬ স্মারকে কোতোয়ালী থানার ওসি কর্ণফুলী থানার ওসি বরাবর ইএসটি পাঠান। এতে কোতোয়ালী থানার এফআইআর নম্বর ৫৩, তারিখ ২১ এপ্রিল ২০২৬ এবং জিআর নম্বর ২১৫ উল্লেখ করা হয়।

মামলাটিতেও সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩/১৪ ধারা রয়েছে। ইএসটি পাঠান কোতোয়ালী থানার এসআই মো. আবু সাঈদ রানা। বিষয়টি তখন নিশ্চিত করেছিলেন কর্ণফুলী থানার এএসআই মো. নুরুল আমিন।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে ওই মামলার এজাহার সংগ্রহ করে দেখা যায়, মামলার বাদী কোতোয়ালী থানার এসআই রাকিবুল হাসান। এজাহারে নাম উল্লেখ করে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের তালিকায় আমিনুল ইসলামের নাম নেই। তালিকায় রয়েছেন জাহিদুর রহমান জাহেদ (২৯), বিশ্বজিৎ চৌধুরী (৩২), সাইফুল ইসলাম টিপু (৩৩), মোহাম্মদ কামরুল হাসান (২৯), গোলাম সামদানি জনি প্রকাশ হাড্ডি জনি (৩৯), জিসান (২০), দিদার (২৫), মিঠু দাশ (৪২), অভি (২৭) ও সাদেক হোসেন রিংকু (২৮)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল সকালে কোতোয়ালী থানাধীন কোর্ট হিল ভবনের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পাকা সড়কে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যান এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এ ঘটনার সঙ্গেও আমিনুল ইসলামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার।

একটি মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও কীসের ভিত্তিতে তাঁর নামে ইএস পাঠানো হয়েছিল, তা জানতে চাইলে এসআই আবু সাঈদ রানা বলেন, ‘বিষয়টি দেখতে হবে। আমিনুল ইসলামের নামে কীভাবে ইএস গেছে, তা এই মুহূর্তে আমার মনে নেই। কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।’

এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

এর কিছুদিন পর একই থানার এসআই মো. আল আমিন অন্য একটি মামলার সূত্রে আমিনুল ইসলামের নামে ইএস পাঠান। একই ব্যক্তির নামে একাধিক মামলার সূত্রে এ ধরনের নথি পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একটি মামলার এজাহারে নাম না থাকার পরও তাঁর নামে কেন অনুসন্ধান নথি পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

‘মামলা বাণিজ্য চলছে’— মানবাধিকার আইনজীবী
বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান বলেন, “মামলা বাণিজ্য চলছে। অনেকে ব্যক্তিগত শত্রুতা উদ্ধার করতে মামলাগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের সময় দেশে ছিল না, এমন লোককেও আসামি করা হয়েছে। আবার টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট দিয়ে আসামির নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও দেখেছি। এসব বাণিজ্য সরকার ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”

তার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার যথার্থতা, আসামি অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

সাবেক ওসির বক্তব্য
কোতোয়ালী থানার সাবেক এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি জানি না বিষয়টি কীভাবে এসেছে। সে সময় সেকেন্ড অফিসার এজাহার তৈরি করে আমার সামনে এনেছেন, আমি শুধু সই করেছি। তিনি কার কার নাম দিয়েছেন, তা আমি জানি না। নির্দোষ কেউ থাকলে কমিশনার স্যারের কাছে প্রতিকার চাইতে পারেন।’

‘জানাজায় ছিলাম না, মিছিলেও ছিলাম না’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো জানাজায় ছিলাম না। মিটিং-মিছিলেও ছিলাম না। এ মামলায় কারা কেন আমার নাম দিয়েছে, আমি জানি না।’

ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আজিম আলী বলেন, ‘আমি ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আমার নামে মামলার সূত্রে অনুসন্ধান নথি পাঠানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দেখা হোক। কোনো অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তার তদন্ত হোক, তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।’

এ বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধের দাবি আইনজীবীর
চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব। আইন জানা ব্যক্তিরাই যদি আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে মামলার আসামি করার সুযোগ তৈরি করেন, তা উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি বাদী না হয়েও পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করলে, সেই মামলার পেছনের কারণ ও ভিত্তি নিয়েও জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।’

সংশ্লিষ্ট নথি, মামলার এজাহার এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পর্যালোচনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে— একটি মামলার এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও আমিনুল ইসলামের নামে কীসের ভিত্তিতে অনুসন্ধান নথি পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আজম আলীর নামে পাঠানো ইএসগুলোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে পুলিশের অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন