৩০ অক্টোবর ২০২৬

ডেভিড ইমনের গোপন পরিচয় ফাঁস, ভারতীয় আধার কার্ডে ‘আজহার খান’

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তার অপরাধ সাম্রাজ্য, অর্থের উৎস, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনা নিয়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে তার নাম লেখা ছিল ‘আজহার খান’।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, ডেভিড ইমন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণের জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ডেভিড ইমনকে ধরতে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে কুমিল্লা, পরে পদ্মা সেতু এলাকা, গোপালগঞ্জ ও নড়াইলসহ একাধিক স্থানে তাকে আটকের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ডেভিড ইমন ও পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। ডেভিড ইমন নিয়ন্ত্রণ করতেন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা, আর রায়হান দেখভাল করতেন চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা। একজনের এলাকায় অন্যজন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক ইউপিডিএফ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ডেভিড ইমনের গ্রুপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো। তবে অস্ত্রের উৎস ও অর্থ পাচারের এসব অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে আরও জানা গেছে, সাম্প্রতিক অভিযানের পর রায়হানের সশস্ত্র নেটওয়ার্ক অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া চাঁদাবাজির অর্থ দিয়ে তিনি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি কিনেছেন এবং ওই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন তদবিরকারীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

ডেভিড ইমনের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াসকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। তার দেওয়া তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে যশোরে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন